ভারতে নবজাতককে দেওয়া হবে স্বর্ণের আংটি, কারা পাবে

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভারতে নবজাতককে দেওয়া হবে স্বর্ণের আংটি, কারা পাবে
এক নবজাতককে স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। ছবি: এনডিটিভি

সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদাতাদের জন্য এক প্রকল্প চালু করেছে ভারতের তামিলনাড়ু সরকার। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’ বা ‘মাতুলের স্বর্ণের আংটি প্রকল্প’। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতককে দেওয়া হবে এক গ্রাম ওজনের স্বর্ণের আংটি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে রাজ্যজুড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার আংটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যার জন্য বার্ষিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি।

কেমন হবে স্বর্ণের আংটি?

এ বিশেষ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নবজাতকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের স্বর্ণের আংটি। কারচুপি বা জালিয়াতি এড়াতে প্রতিটি আংটির জন্য রাখা হয়েছে আলাদা সিরিয়াল নম্বর। শুধু তাই নয়, উপহারটি পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে তা সরবরাহ করা হচ্ছে টেম্পার-প্রুফ প্যাকেটে।

কারা পাবেন?

সব নবজাতকই এ আংটি পাবে না। এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতাল কিংবা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুই কেবল এ সুবিধা পাবে। তবে শিশুটির মাকে অবশ্যই তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

পাশাপাশি, ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ বা PICME ব্যবস্থায় মা ও শিশুর নাম নিবন্ধিত থাকা বাধ্যতামূলক এবং ‘রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’ (RCH) আইডি থাকতে হবে।

চলতি বছরের ২২ জুন থেকে জন্ম নেওয়া শিশুরা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। সাধারণত সরকারি হাসপাতাল থেকে সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অর্থাৎ ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই এ আংটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

তবে ২২ জুন থেকে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য অন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে রাজ্যের ১০৭টি বিশেষ হাবের মাধ্যমে এ আংটি পৌঁছে দেওয়া হবে অভিভাবকদের হাতে।

হাসপাতালে এক নবজাতকের সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়
হাসপাতালে এক নবজাতকের সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়

কেন এ আয়োজন?

তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, এ উদ্যোগের পেছনে শুধু একটি উপহার দেওয়া উদ্দেশ্য নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো মাতৃত্বকে গভীর সম্মান জানানো, নারীর স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর ভরসা ও আস্থাও বহুগুণ বাড়বে।

তামিল সংস্কৃতির এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে, শিশুর জন্মের পর মায়ের ভাই বা ‘মামা’র বিশেষ ভূমিকা থাকে। সেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকেই প্রতীকীভাবে জীবন্ত করে তুলতেই এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম’ বা ‘মাতুলের স্বর্ণের আংটি’।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা

প্রকল্পটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও কম জল ঘোলা হচ্ছে না। বিরোধী দলগুলোও বেশ জোরালো প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ ও অর্থনৈতিক চাপের সময়ে ফ্রি স্বর্ণের আংটি দেওয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় খাতে বিপুল অর্থ খরচ না করে অন্য কোনো জরুরি খাতে ব্যয় করা উচিত ছিল।

এছাড়া আংটি কেনার পুরো প্রক্রিয়া এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। যদিও সব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্যই লাভজনক।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/