অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ঐকতান ইঙ্কের আয়োজনে দুর্গাপূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ঐকতান ইঙ্কের আয়োজনে দুর্গাপূজা
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের অ্যারানা হিলসে ঐকতান ইঙ্কের আয়োজনে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রবাসী বাঙালিরা। ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের অ্যারানা হিলসে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ঐকতান ইঙ্কের দুর্গাপূজা। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর দ্য হিলস ডিস্ট্রিক্ট কমিউনিটি সেন্টারে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরা অংশ নেন। দুই দিনের আয়োজনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

আয়োজকেরা জানান, এ বছরের দুর্গাপূজা ছিল ঐকতান ইঙ্কের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও সফল আয়োজন। গোল্ড কোস্ট থেকে ব্রাইবি আইল্যান্ডসহ কুইন্সল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এতে যোগ দেন। প্রবাসে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ঐকতান সদস্যদের পরিবেশিত আগমনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। শঙ্খধ্বনি, শাস্ত্রীয় সংগীত ও ভক্তিমূলক পরিবেশনায় তৈরি হয় পূজার আবহ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি অব মোরটন বে-এর মেয়র পিটার ফ্ল্যানারি, কাউন্সিলর ক্যাথ টঙ্কস এবং ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল সঞ্জিত দাস।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে দুর্গাপূজার মতো উৎসবের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সমাজে প্রবাসী বাঙালিদের অবদান এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক শেকড় ধরে রাখার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তাঁরা।

দুই দিনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল অন্যতম আকর্ষণ। বিভিন্ন বয়সী ২৫ জনের বেশি স্থানীয় শিল্পী সংগীত, নৃত্য, নাটক ও যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন। প্রতিদিনই দর্শকে পূর্ণ ছিল মিলনায়তন। এসব পরিবেশনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান।

খাবারের আয়োজনেও ছিল বৈচিত্র্য। দুই দিন দর্শনার্থীদের জন্য চার ধরনের মেনু রাখা হয়। ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি-ভোগের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন ধরনের খাবার। এতে পূজার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় বাঙালির চিরচেনা ভোজন-উৎসব।

আয়োজন সফল করতে সংগঠনের তরুণ সদস্যদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আঁচল আজিজ, উপমা সাহা, মধুমিতা চ্যাটার্জি, বিরাট মণ্ডল ও করণের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি শাওনা হাজরা দাস, শাশ্বতী বসু চ্যাটার্জি, উত্তরীয় দত্ত ও অনিমেষ দাসসহ সংগঠনের অন্য সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নন্দিনী সেন মেহরা ও দেবলীনা সরকার। পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন পুরোহিত সুখদেব মুখোপাধ্যায়। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রিয়াঙ্কা ঘড়াই, পিয়াসী চাকি, জয়তী বসু, পায়েল সাধুখাঁ, সুদেশনা ও দোয়েল।

উৎসব আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার জন্য ডা. ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি, অশোক সুর, সেঁতু সাহা, শ্রাবন্তী মজুমদার এবং বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গোল্ড কোস্ট ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিসবেনের (বিএবি) সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানের শব্দ ও আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানও তুলে ধরা হয়।

রবিবার সন্ধ্যায় বিসর্জন ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে ডিজের গানের তালে নাচ-গানে মেতে ওঠেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের শেষ পর্ব হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐকতান ইঙ্কের ষষ্ঠ দুর্গাপূজার আয়োজন। আয়োজকদের আশা, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হবে।

/এমআর/