আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ম্যাক্রোঁ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ম্যাক্রোঁ
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট, গাদাগাদি করে চলা শ্রেণিকক্ষ আর জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। একের পর এক আন্দোলনে যখন দেশজুড়ে চরম অস্বস্তি, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরাসরি আলোচনার টেবিলে ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বৈঠকটিই হবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সরাসরি কথা।

হাইস্কুলের তরুণদের এ আন্দোলনের মূল সুরটাই হলো সংস্কার। স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং নিজেদের শিক্ষা সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে তারা। রাজপথের এ প্রতিবাদের তীব্রতা দিন দিন বাড়লেও সরকারের তরফ থেকে এতদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্সের ছাত্র সংগঠন লাইসি অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় কর্মী ১৮ বছর বয়সী সুমাইয়া সারে বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমাদের কেবল প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই রাখা হয়নি। আমরা চাই প্রতিশ্রুতির বদলে দৃশ্যমান ফলাফল। আমরা আমাদের হাইস্কুলগুলোতে প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চাই।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সেজন্য পুরো দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাস্তায় পুলিশের সংখ্যা একধাক্কায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে অধিকাংশ স্থানে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানালেও, শেষদিকে তা অপ্রীতিকর দাঙ্গা আর সহিংসতায় রূপ নেয়।

সেসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কেন তড়িৎ ভূমিকা রাখতে পারেনি- তা নিয়ে দেশজুড়ে নানা সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার আর কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না ফরাসি প্রশাসন। শনিবারে (২৪ অক্টোবর) নতুন করে বড় বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজধানী প্যারিসে চলাফেরার ওপর সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে, আর মার্শেই ও লিওঁ শহরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান ঋণের ধাক্কা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফ্রান্স সরকার এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে আছে। তার ওপর তরুণেরা এভাবে অনড় অবস্থান নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ম্যাক্রোঁ।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/