তীব্র গরমে ইউরোপজুড়ে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তীব্র গরমে ইউরোপজুড়ে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু
ইতালির নেপলসে তীব্র গরমে মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছেন এক ব্যক্তি

চলতি গ্রীষ্মে প্রচণ্ড দাবদাহে ইউরোপের শহরগুলোতে রেকর্ড ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গবেষকদের মতে, এর পেছনে সরাসরি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের হাত রয়েছে। দূষণের কারণে এ গ্রীষ্মে অতিরিক্ত ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ইউরোপের ৮৫৪টি শহরের আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মডেলে ‘বিস্ময়কর’ এ তথ্য পাওয়া গেছে। টানা তাপপ্রবাহে মৃত্যুর এ সংখ্যা অতীতে সবচেয়ে বিপজ্জনক বছরগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষণার সহ-লেখক এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ম্যালকম মিস্ট্রি বলেন, ‘৮৫৪টি শহরাঞ্চলে তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক মোট সংখ্যা সত্যিই বিস্ময়কর। আরও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ মৃত্যুগুলোর একটি অংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।’ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হার শতকের শুরুর দিকের ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার দেখা গেছে মাল্টা, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে। অন্যদিকে মোট মৃতের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। মৃত্যু সনদে সাধারণত মূল কারণ হিসেবে তাপপ্রবাহের কথা লেখা হয় না, বরং স্ট্রোক বা ফুসফুসের জটিলতার কথা থাকে। ফলে অনেক পরিবারই জানতে পারেন না যে প্রচণ্ড গরম এবং পরিবেশের ক্ষতি কীভাবে তাদের প্রিয়জনের প্রাণ কেড়ে নিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর ইতালির নেপলস। শহরের ওস্পেডালে সিটিও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনো জানান, সবচেয়ে গরমের দিনগুলোতে তাদের এখানে রোগী ১৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি একাকীত্ব ও দারিদ্র্য পুরো পরিস্থিতিকে আরও করুণ করে তুলেছিল।

নিহতদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। তবে তরুণরাও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮৩৩ জন মানুষ গরমে মারা গেছেন। মহাদেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর অনুভূত হয়েছে। ইইউ-এর জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপের জন্য এটিই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন গ্রীষ্ম। ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বাড়ছে, যার ফলে শীতকালে ঠান্ডা কমে গেলেও গ্রীষ্মকাল মানুষের জন্য এখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনোর মতে, আজকাল আসল মহামারী হলো একাকীত্ব। গ্রীষ্মকালে অনেক বয়স্ক মানুষ পরিবারের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়ে একা হয়ে পড়েন, এবং স্বল্প আয়ের কারণে তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের খরচ বহন করতে পারেন না, অথবা কিনলেও বিদ্যুতের খরচের ভয়ে তা চালু করা এড়িয়ে চলেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকেরা সরকারকে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, শহর সবুজ করা, চিকিৎসা সেবা বাড়ানো এবং এয়ার কন্ডিশনারের সুবিধা সহজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুঃসময়ে অসহায় প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/