শিরোনাম

ন্যাটোভূক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ন্যাটোভূক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন
মহড়া চলাকালীন জার্মান সেনা বাহিনীর সদস্যরা

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ধৈর্য পরীক্ষা করতে যেকোনো মুহূর্তে উস্কানিমূলক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে এমন চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটোর পূর্ব ইউরোপীয় কোনো সদস্য দেশে ছোট আকারের স্থল অনুপ্রবেশ, সাইবার আক্রমণ কিংবা পরিকল্পিত নাশকতা চালিয়ে মস্কো উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের এ নতুন মূল্যায়ন আগের অবস্থানের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। আগে ধারণা করা হতো, ইউক্রেনের মাটিতে আটকে থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে নতুন করে কোনো সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নেবেন না। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত জয় পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্রেমলিন এখন নতুন কৌশল আঁটছে। ফলে জোটটির পূর্ব সীমান্তে ধূসর অঞ্চলে হামলার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

সম্প্রতি ইউরোপজুড়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু রহস্যজনক ঘটনা গোয়েন্দাদের এই আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইউক্রেনীয় বিমানের পাশেই বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন খুঁজে পাওয়া যায়, যার পেছনে মস্কোর হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন আতঙ্কে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ইউরোপে বিভেদ তৈরি করতে মস্কো ইউক্রেনে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ছদ্মবেশী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

একই সঙ্গে পোল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় রাশিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত হওয়া এবং ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজের গোলাবর্ষণের মহড়াকে যুক্তরাজ্য ও তার সহযোগীরা বড় ধরনের উস্কানি হিসেবে দেখছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ করাই মস্কোর মূল উদ্দেশ্য। সামরিকভাবে ন্যাটোকে সরাসরি পরাজিত করা কঠিন হওয়ায়, রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে অন্তর্ঘাত, ভূ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পরিচয়হীন দল পাঠিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তবে ন্যাটোর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে জোটটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/এমএকে/