সাগরের তলদেশেও ঘণ্টায় ৩২০ কিমি গতি জাপানি বুলেট ট্রেনের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সাগরের তলদেশেও ঘণ্টায় ৩২০ কিমি গতি জাপানি বুলেট ট্রেনের
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বিশ্বজুড়ে আধুনিক ও দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনের জন্য জাপানের আলাদা খ্যাতি রয়েছে। তবে দেশটির ‘হায়াবুসা শিনকানসেন’ নামের বিশেষ বুলেট ট্রেনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সাধারণ যেকোনো যাত্রার চেয়ে একদম আলাদা। ই৫ সিরিজের ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে সরাসরি সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হনশু ও হোক্কাইডো দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

আন্তর্জাতিক মহলে দারুণ খ্যাতি পাওয়া ট্রেনটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্র তলদেশের রেল সুড়ঙ্গ সৈকান টানেল অতিক্রম করে। মোট ৫৩.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেলের ২৩.৩ কিলোমিটার অংশ রয়েছে সরাসরি সাগরের তলদেশে। জাপানের প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঝুঁকি সামাল দিতে নির্মিত এ টানেলটি ভূ-পৃষ্ঠ বা সাগরের প্রায় ৮০০ ফুট গভীরে অবস্থিত। এটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে।

সম্প্রতি ভারতের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর টোকিও থেকে হোক্কাইডো যাওয়ার পথে এ ট্রেনে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ট্রেনটির প্রযুক্তির প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি হায়াবুসা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে হোক্কাইডো যাচ্ছি, এটি সাগরের ভেতরের টানেলে ৩২০ কিমি গতিতে চলে। এটি সমুদ্রের ৮০০ ফুট গভীরে নির্মিত ৫৪ কিলোমিটারের একটি টানেল। কী দুর্দান্ত প্রকৌশল প্রযুক্তি! ৯০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ আমরা অতিক্রম করছি মাত্র ৪ ঘণ্টায়।’

ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানির তথ্য বলছে, গতি, নিরাপত্তা ও সর্বাধুনিক আরামদায়ক সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্মিত ই৫ সিরিজের ট্রেনগুলো ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করছে। দীর্ঘ এ ভ্রমণে যাত্রীদের ক্লান্তি দূর করতে ট্রেনের সিটগুলোতে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত লেগরুম, হেলান দেওয়ার সুবিধা, মাথার কুশন, চার্জিং পয়েন্ট ও ট্রে টেবিল।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য রয়েছে বড় আকারের আধুনিক ওয়াশরুম। নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ওয়াশরুমের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কামরাগুলোর ভেতর ও প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/