চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব, যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব, যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
আয়নাল হোসেন

চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে দেশের স্বার্বভৌমত্বে যাতে কোনো আঘাত না আসে সে বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। এই করিডর বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এই প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বিরোধী দলগুলো দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিতে বলেছে।
জানা গেছে, চীনের অর্থনৈতিক করিডরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনের মধ্যে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও নৌপথের একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এটি মূলত বেইজিংয়ের ‘ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’- এর একটি অংশ, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার পেতে চায়। চীনের এই প্রস্তাবিত মেগা করিডর কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এর একটি অংশ ইয়াঙ্গুনে এবং অন্যটি রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরে। রাখাইন রাজ্য থেকে সড়ক ও রেল সংযোগের মাধ্যমে এটি সরাসরি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই করিডর হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বাংলাদেশে চীনের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। চীন রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায় ও অর্থনৈতিক দিকটি বেশি দেখে। অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ হলে বাংলাদেশ দুটি সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বাংলাদেশ পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির বড় সুযোগ পাবে ও দ্বিতীয়টি হলো করিডর নির্মাণের ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপোড়েন আছে সেটি মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের মতো বড় দেশ যখন চাইবে তখন বিষয়টি উভয় দেশ মীমাংসা করতে বাধ্য হবে।
হাদিউজ্জামান আরও বলেন, করিডর চালু করতে বাংলাদেশকে কৌশলী হতে হবে, যাতে কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। শুধু আমদানিতে জোর না দিয়ে রপ্তানিরে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বেইজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটির মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সংযোগ ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার (মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করেন। ওই সময় সে দেশের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং অর্থনৈতিক করিডর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবটি আমরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখছি। বিশেষ করে এটির ওপর সার্ভে করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, চীনের মতো একটি দেশ যখন করিডর নিয়ে আলোচনা করেছে তখন প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এটিকে অন্যরা নেগেটিভ হিসেবে নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘করিডরের বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বর্তমানে বিষয়টিতে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এখানে যেহেতু মিয়ানমানরের সীমান্ত রয়েছে, সেহেতেু তাদের কাছে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এখানে ভূরাজনীতিও আছে। এ কারণে এখানে নিজেদের স্বার্থের বিষয়টি দেখতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার চীনের প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেব দেখছেন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,‘ আমরা পররাষ্ট্র নীতির বৈচিত্র্যের পক্ষে। তবে এই বিষয়ে দেশের লাভ কতটুকু সেটি আগে দেখতে হবে।’
ঢাকা পেপার্সের সম্পাদক আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘আমরা একপাক্ষিক দুনিয়ার মধ্যে ঢুকছি। চীনের সঙ্গে করিডর চুক্তি হলে ভারসাম্য হবে। তবে যে স্থান দিয়ে করিডর চাচ্ছে সেটি সংঘাতপ্রবণ। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল আমেরিকা ব্যবহার করতে চায়। আবার চীনও করতে চায়। আমরা যাতে দুই দেশের স্বার্থের বলি না হই, সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। করিডর দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’

চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে দেশের স্বার্বভৌমত্বে যাতে কোনো আঘাত না আসে সে বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। এই করিডর বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এই প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বিরোধী দলগুলো দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিতে বলেছে।
জানা গেছে, চীনের অর্থনৈতিক করিডরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনের মধ্যে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও নৌপথের একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এটি মূলত বেইজিংয়ের ‘ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’- এর একটি অংশ, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার পেতে চায়। চীনের এই প্রস্তাবিত মেগা করিডর কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এর একটি অংশ ইয়াঙ্গুনে এবং অন্যটি রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরে। রাখাইন রাজ্য থেকে সড়ক ও রেল সংযোগের মাধ্যমে এটি সরাসরি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই করিডর হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বাংলাদেশে চীনের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। চীন রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায় ও অর্থনৈতিক দিকটি বেশি দেখে। অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ হলে বাংলাদেশ দুটি সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বাংলাদেশ পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির বড় সুযোগ পাবে ও দ্বিতীয়টি হলো করিডর নির্মাণের ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপোড়েন আছে সেটি মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের মতো বড় দেশ যখন চাইবে তখন বিষয়টি উভয় দেশ মীমাংসা করতে বাধ্য হবে।
হাদিউজ্জামান আরও বলেন, করিডর চালু করতে বাংলাদেশকে কৌশলী হতে হবে, যাতে কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। শুধু আমদানিতে জোর না দিয়ে রপ্তানিরে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বেইজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটির মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সংযোগ ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার (মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করেন। ওই সময় সে দেশের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং অর্থনৈতিক করিডর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবটি আমরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখছি। বিশেষ করে এটির ওপর সার্ভে করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, চীনের মতো একটি দেশ যখন করিডর নিয়ে আলোচনা করেছে তখন প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এটিকে অন্যরা নেগেটিভ হিসেবে নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘করিডরের বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বর্তমানে বিষয়টিতে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এখানে যেহেতু মিয়ানমানরের সীমান্ত রয়েছে, সেহেতেু তাদের কাছে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এখানে ভূরাজনীতিও আছে। এ কারণে এখানে নিজেদের স্বার্থের বিষয়টি দেখতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার চীনের প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেব দেখছেন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,‘ আমরা পররাষ্ট্র নীতির বৈচিত্র্যের পক্ষে। তবে এই বিষয়ে দেশের লাভ কতটুকু সেটি আগে দেখতে হবে।’
ঢাকা পেপার্সের সম্পাদক আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘আমরা একপাক্ষিক দুনিয়ার মধ্যে ঢুকছি। চীনের সঙ্গে করিডর চুক্তি হলে ভারসাম্য হবে। তবে যে স্থান দিয়ে করিডর চাচ্ছে সেটি সংঘাতপ্রবণ। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল আমেরিকা ব্যবহার করতে চায়। আবার চীনও করতে চায়। আমরা যাতে দুই দেশের স্বার্থের বলি না হই, সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। করিডর দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’

চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব, যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
আয়নাল হোসেন

চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে দেশের স্বার্বভৌমত্বে যাতে কোনো আঘাত না আসে সে বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। এই করিডর বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এই প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বিরোধী দলগুলো দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিতে বলেছে।
জানা গেছে, চীনের অর্থনৈতিক করিডরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনের মধ্যে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও নৌপথের একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এটি মূলত বেইজিংয়ের ‘ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’- এর একটি অংশ, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার পেতে চায়। চীনের এই প্রস্তাবিত মেগা করিডর কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এর একটি অংশ ইয়াঙ্গুনে এবং অন্যটি রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরে। রাখাইন রাজ্য থেকে সড়ক ও রেল সংযোগের মাধ্যমে এটি সরাসরি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই করিডর হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বাংলাদেশে চীনের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। চীন রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায় ও অর্থনৈতিক দিকটি বেশি দেখে। অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ হলে বাংলাদেশ দুটি সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বাংলাদেশ পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির বড় সুযোগ পাবে ও দ্বিতীয়টি হলো করিডর নির্মাণের ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপোড়েন আছে সেটি মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের মতো বড় দেশ যখন চাইবে তখন বিষয়টি উভয় দেশ মীমাংসা করতে বাধ্য হবে।
হাদিউজ্জামান আরও বলেন, করিডর চালু করতে বাংলাদেশকে কৌশলী হতে হবে, যাতে কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। শুধু আমদানিতে জোর না দিয়ে রপ্তানিরে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বেইজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটির মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সংযোগ ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার (মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করেন। ওই সময় সে দেশের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং অর্থনৈতিক করিডর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবটি আমরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখছি। বিশেষ করে এটির ওপর সার্ভে করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, চীনের মতো একটি দেশ যখন করিডর নিয়ে আলোচনা করেছে তখন প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এটিকে অন্যরা নেগেটিভ হিসেবে নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘করিডরের বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বর্তমানে বিষয়টিতে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এখানে যেহেতু মিয়ানমানরের সীমান্ত রয়েছে, সেহেতেু তাদের কাছে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এখানে ভূরাজনীতিও আছে। এ কারণে এখানে নিজেদের স্বার্থের বিষয়টি দেখতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার চীনের প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেব দেখছেন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,‘ আমরা পররাষ্ট্র নীতির বৈচিত্র্যের পক্ষে। তবে এই বিষয়ে দেশের লাভ কতটুকু সেটি আগে দেখতে হবে।’
ঢাকা পেপার্সের সম্পাদক আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘আমরা একপাক্ষিক দুনিয়ার মধ্যে ঢুকছি। চীনের সঙ্গে করিডর চুক্তি হলে ভারসাম্য হবে। তবে যে স্থান দিয়ে করিডর চাচ্ছে সেটি সংঘাতপ্রবণ। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল আমেরিকা ব্যবহার করতে চায়। আবার চীনও করতে চায়। আমরা যাতে দুই দেশের স্বার্থের বলি না হই, সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। করিডর দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’




