শিরোনাম

সুখী দাম্পত্যের রহস্য: দিনে কতটা সময় একসঙ্গে কাটাবেন

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
সুখী দাম্পত্যের রহস্য: দিনে কতটা সময় একসঙ্গে কাটাবেন

আর্থিক স্বচ্ছলতা, সুন্দর বাসস্থান, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বছরে কয়েকবার ভ্রমণ-সবকিছু থাকার পরও অনেক দম্পতির জীবনে তৈরি হচ্ছে অশান্তি। এর কারণ একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারা। কর্মব্যস্ত জীবনে সংসার, সন্তান ও পেশাগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক দম্পতির সম্পর্কেই তৈরি হচ্ছে দূরত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ ও স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিতভাবে সঙ্গীর সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে, ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং যেকোনো পারিবারিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হয়।

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কর্মজীবী দম্পতির দিন শুরু হয় তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয় নানা দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততায়। অফিস শেষে গৃহস্থালির কাজ, সন্তানের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্বের কারণে নিজেদের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সম্পর্কের উষ্ণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তবে সম্পর্ক ভালো রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বরং অল্প সময় হলেও সেটি যেন অর্থবহ ও মনোযোগপূর্ণ হয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১০ মিনিটের আন্তরিক কথোপকথনও সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একই ছাদের নিচে দীর্ঘ সময় কাটালেও মানসিকভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন দম্পতিরা। তাই একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় মোবাইল ফোন, কাজ কিংবা অন্য কোনো ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সময়টুকু শুধু দুই জনের জন্য বরাদ্দ রাখাই হতে পারে সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করা যেতে পারে। যেমন একসঙ্গে সকালের নাশতা প্রস্তুত করা, দিনের শেষে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া, হাঁটতে যাওয়া, শরীরচর্চা করা কিংবা বিকেলের এক কাপ চা ভাগাভাগি করে পান করা। এসব মুহূর্তে নিজেদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের মান নির্ভর করে সময়ের দৈর্ঘ্যের ওপর নয়, বরং সেই সময়ের গুণগত মানের ওপর। তাই নির্দিষ্ট সময় ধরে একসঙ্গে থাকার বাধ্যবাধকতা তৈরি না করে দু’জনের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী সময় কাটানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কারণ প্রতিটি সম্পর্কের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও চাহিদা রয়েছে, আর সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হয়।

/এসবি/