শিরোনাম

১১৭০ টাকায় ঘরে বসেই ই-নামজারি, ফিসহ আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
১১৭০ টাকায় ঘরে বসেই ই-নামজারি, ফিসহ আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া
নামজারি

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার, হেবা, আদালতের ডিক্রি বা অন্য কোনো বৈধ সূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ডে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ভূমির মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করে নতুন মালিকের নামে খতিয়ান প্রস্তুতের এই প্রক্রিয়াই নামজারি বা মিউটেশন নামে পরিচিত। বর্তমানে এর বড় একটি অংশ অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় ঘরে বসেই ই-নামজারির আবেদন করা সম্ভব।

কেন নামজারি গুরুত্বপূর্ণ

নামজারি সম্পন্ন হলে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদ হয়। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন জরিপ কার্যক্রমে সুবিধা পাওয়া যায়।

জমির রেকর্ডে মালিকানার তথ্য সঠিকভাবে হালনাগাদ না থাকলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে বিরোধ বা আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই জমি কেনা বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে মালিকানা অর্জনের পর দ্রুত নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ।

নামজারি কত ধরনের

প্রচলিতভাবে নামজারির ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের প্রক্রিয়া দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে—

শুধু নামপত্তন: একই খতিয়ানে আগের মালিকের পরিবর্তে নতুন মালিক বা উত্তরাধিকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা।

নামপত্তন ও জমাখারিজ: জমি বিভক্ত করে নতুন মালিকের নামে পৃথক খতিয়ান ও হোল্ডিং তৈরি করা।

নামপত্তন, জমাখারিজ ও একত্রীকরণ: একই মৌজায় একাধিক খতিয়ানের জমি একত্র করে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করা।

অনলাইনে ই-নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে

ই-নামজারির আবেদন করতে প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন মিউটেশন সেবায় প্রবেশ করতে হবে। এ জন্য ভিজিট করুন—mutation.land.gov.bd। এরপর ‘অনলাইনে আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

আবেদনের সময় জমি কোন সূত্রে অর্জিত হয়েছে—ক্রয়, উত্তরাধিকার, হেবা, ডিক্রি, নিলাম বা অন্য কোনো বৈধ উপায়—তা উল্লেখ করতে হবে। এরপর বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য নির্বাচন করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ দিতে হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীর ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা এবং মালিকানা অর্জনের প্রমাণ হিসেবে দলিল, উত্তরাধিকার সনদ বা আদালতের রায়ের কপি সংযুক্ত করতে হতে পারে।

তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন জমা দিলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যায়। এই নম্বর ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে আবেদনের অগ্রগতি জানা যায়।

ই-নামজারির আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হয়

আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে তা যাচাই ও তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিন তদন্তের পর প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কাগজপত্র ও তথ্য সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নামজারি অনুমোদন করেন এবং নতুন মালিকের নামে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মহানগর এলাকায় নামজারি নিষ্পত্তির সময় ৪৫ কর্মদিবস এবং অন্যান্য এলাকায় ৩০ কর্মদিবস। তবে ই-নামজারি ব্যবস্থায় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৮ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ই-নামজারির সরকারি ফি কত

ই-নামজারির আবেদন করার সময় আবেদন ও নোটিশ ফি হিসেবে ৭০ টাকা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর খতিয়ান প্রস্তুতের জন্য ডিসিআর ফি ১,১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ই-নামজারির জন্য মোট খরচ ১,১৭০ টাকা।

অনলাইনে এই অর্থ নগদ, বিকাশ, রকেট, উপায়, ভিসা, মাস্টারকার্ড অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

অনলাইনে শুনানির সুযোগও আছে

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনকারী অনলাইনে শুনানির জন্য আবেদন করতে পারেন। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনলাইন শুনানি সেবা ব্যবহার করা যায়।

খতিয়ান ও ডিসিআরও পাওয়া যাবে অনলাইনে

নামজারি অনুমোদনের পর ডিসিআর ফি পরিশোধ করলে আবেদন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ান ও ডিসিআরের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়। ফলে শুধু কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ভূমি অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন ডিসিআর আইনগতভাবে বৈধ এবং ম্যানুয়াল ডিসিআরের সমতুল্য হিসেবে গণ্য হয়।

ই-নামজারির আবেদন কোথায় করবেন

ই-নামজারির আবেদন, আবেদন ট্র্যাকিং এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন মিউটেশন সেবা ব্যবহার করা যায়। ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সরকারি সেবা ও তথ্যের জন্য রয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মূল পোর্টাল।

ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে জমির মালিকানা হালনাগাদের এই প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে আবেদন করলে ঘরে বসেই নামজারির আবেদন, ফি পরিশোধ এবং পরবর্তী সময়ে খতিয়ান ও ডিসিআরের কপি সংগ্রহ করা সম্ভব।

/এবি/