শিরোনাম

ব্রেকআপের পরপরই যে কাজগুলো করবেন না

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ব্রেকআপের পরপরই যে কাজগুলো করবেন না
প্রতীকী ছবি

একসময় যাকে ছাড়া বাঁচবেন না বলে মনে হতো, এখন হয়তো সে আপনার সঙ্গে নেই। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন কারণে সম্পর্কচ্ছেদ হতে পারে। ব্রেকআপের পর এমন কিছু কাজ করতে চাইতে পারেন, যা অন্য সময় করার আগে দু’বার ভাবতেন। হয়তো আপনার প্রাক্তনকে ফোন করতে অথবা তার সেশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে উঁকি দিতে ইচ্ছা করছে। আবার অনেক সময় ব্রেকআপের কারণ নিয়ে নিজের দিকটা ব্যাখ্যা করতে, অথবা সে যে আপনার কাছে কতটা গুরুত্বহীন তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে ইচ্ছে করতে পারে। মন ভাঙার পর মানুষের মাথা সাধারণত পরিষ্কার থাকে না। বিশেষ করে আপনি যদি তাকে গভীরভাবে ভালোবেসে থাকেন।

সম্পর্কে থাকার সময় আপনি একটা রুটিনে থাকতেন। নিয়ম করে তাকে কল দেওয়া, কেমন আছে জিজ্ঞাসা করা, গভীর রাত পর্যন্ত কথা বলা, তার জন্য অপেক্ষা করা, অনেক কিছুই করতেন। এ কারণে ব্রেকআপের পর আপনার অনুশোচনা বেড়ে যেতে পারে। তাই আবেগ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু কাজ এড়িয়ে চলাই ভালো-

প্রাক্তনকে বারবার ফোন বা মেসেজ করবেন না

ব্রেকআপের আগে আপনার ভেতরে শেষ একটি মেসেজ পাঠানোর তাগিদ অনুভব হতে পারে। মনে হতে পারে তার ব্যাখ্যা, ক্ষমা প্রার্থনা বা শেষবারের মতো কথোপকথন হলে আপনি ভালো বোধ করবেন। কিন্তু যখন আবেগগুলো তীব্র থাকে, তখন আরেকবার কথা হলে তা সহজেই তর্ক, বিভ্রান্তিকর ইঙ্গিত বা আরও প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। যে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তার কাছ থেকেই সবসময় এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি মেলে না। তাই অনেক সময় মেনে নেওয়াই ভালো।

তার সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটাঘাঁটি না করা

বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো। আপনার মনে হতে পারে তার ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক পেজ দেখে আসি। তারপর খেয়াল করেন সে কাকে কাকে ফলো করছে। এরপর তাদের স্টোরি, লাইক, বন্ধুদের পোস্ট, এমনকী হয়তো তাদের সর্বশেষ ছবিতে মন্তব্য করা ব্যক্তির প্রোফাইলও দেখেন। যার থেকে আপনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন, দেখা গেলো সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তার সম্পর্কে ক্রমাগত আপডেট পাচ্ছেন। তাই তাকে ব্লক বা আনফলো করে দিন। এতে আপনি স্বস্তিতে থাকবেন।

তাড়াহুড়া করে অন্য সম্পর্কে না জড়ানো

বিচ্ছেদের পর সাধারণত মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে। আরেকজন সঙ্গীর সান্নিধ্য প্রত্যাশা করে। একা থাকা অসহ্য মনে হয়। তাই আরেকজনকে খুঁজছেন, যার কাছে আপনি সান্ত্বনা পাবেন। কিন্তু অন্য কাউকে খোঁজা, বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নতুন কোনো মানুষ যেন পুরোনো সম্পর্ক থেকে মনোযোগ সরানোর কারণ না হয়। কারণ, নতুন মানুষটিকে আপনার প্রাক্তনের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। হয়তো পরিচিত গুণাবলী খুঁজতে পারেন অথবা আপনি যে এগিয়ে গেছেন তা প্রমাণ করার জন্য নতুন সম্পর্কটিকে ব্যবহার করতে পারেন। এর কোনোটিই আপনাকে আসলে কী চান তা বোঝার জন্য খুব বেশি সুযোগ দেয় না। বিচ্ছেদের পর নিজেকে শান্ত করার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একা থাকাই ভালো। আপনি কত দ্রুত আবার ডেট করতে পারবেন এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, বরং আপনি নতুন কাউকে আন্তরিকভাবে জানার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না সেটাই মুখ্য।

বিপর্যস্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেবেন না

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, খুব বেশি আনন্দ আর খুব বেশি দুঃখিত থাকা অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নেই। কারণ, আপনি যখন খুব বেশি আনন্দে থাকেন, তখন তার জন্য সবকিছু দিয়ে দিতে মন চাইতে পারে। আবার যখন ভারাক্রান্ত থাকেন বা খুব বেশি কষ্টে থাকেন, তখন নিজের জীবন দেবেন এমনও মনে হতে পারে। এটা স্বাভাবিক কোনো ক্রিয়া নয়। তাই নিজেকে স্বাভাবিক করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

বিচ্ছেদকে জনসমক্ষে আনবেন না

ব্রেকআপের পর তাকে ইঙ্গিত করে পোস্ট করা, বা ঠিক কী ঘটেছে সে সম্পর্কে মানুষকে জানাতে মন চাইতে পারে। আপনি গোপনে আশা করতে পারেন যে আপনার প্রাক্তন সঙ্গী পোস্টটি দেখবে। তাই অনলাইনে কিছু দেওয়ার আগে, নিজেকে একটি সহজ প্রশ্ন করুন- আমি আগামীকালও এটি জনসমক্ষে রাখতে চাইবো কি না। যদি উত্তরটি অনিশ্চিত হয়, তবে পোস্ট না করাই ভালো। এর পরিবর্তে বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

/জেএইচ/