ঘেরে মাছ, পাড়ে সবজি: বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের চাষাবাদ

ঘেরে মাছ, পাড়ে সবজি: বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের চাষাবাদ
মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা

ঘেরে লবণাক্ত পানিতে মাছ, আর চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে নানা ধরনের সবজি। একই জমি ও পানির সমন্বিত ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় কৃষকের চাষাবাদের চিত্র। ঘেরে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বেড়িবাঁধে লাউ, কুমড়া, শসা, বরবটি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে তাজা সবজি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে এ ধরনের সমন্বিত চাষাবাদ। বিশেষ করে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে প্রচলিত ফসল উৎপাদন কঠিন, সেসব এলাকার ঘেরের বেড়িবাঁধকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাছের ঘেরের চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে বাঁশের মাচা তৈরি করে লাউ, কুমড়া ও শসার লতা ঝুলছে। কোথাও সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স ও বরবটি। নিচে ঘেরের পানিতে চিংড়ি, রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে একই জায়গা থেকে মাছ ও সবজি দুই ধরনের উৎপাদন পাচ্ছেন চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ঘেরের বেড়িবাঁধে ২ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। ২০২৩ সালে এ আবাদ ছিল ৯৪০ হেক্টর। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭ হেক্টরে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ঘেরের পাড়ে সবজি চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছের ঘেরের সঙ্গে বেড়িবাঁধে সবজি চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘেরের পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন করলে লাভবান হওয়া যাবে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের স্থানীয় কৃষক চঞ্চল রায় বলেন, আগে ঘেরে শুধু মাছ চাষ করতাম। এতে কয়েক বছর লসের শিকার হয়েছে। তবে গত দুই বছর ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করছি। মোটামুটি এখন দুইদিকে ভালো লাভ পাচ্ছি।
একই গ্রামের ধর্ম রায় নামের কৃষক বলেন, ঘেরের চারপাশের বাঁধের জমি আগে অনেকটাই খালি পড়ে থাকত। এখন সেখানে সবজি চাষ করছি। ঘের থেকে মাছ বিক্রি করি, আবার বাঁধের সবজিও বাজারে বিক্রি হয়। সবজিতে এ বছরে আমার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তবে এই পর্যন্ত আমি সবজি বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। এতে একই জায়গা থেকে দুই দিকের আয় হচ্ছে এবং দুইদিকে সমান লাভবান পাচ্ছি।

অন্যদিকে গ্রামের ঠাকুর মণ্ডল নামের কৃষকের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেকের ফসল পুড়ে মারা গেছে। ফলে অনেকেই নতুন করে বীজ রোপণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আমার চাষাবাদ করতে খরচ হয়েছে পাঁচ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা। তবে ফসল বিক্রি করেছি এই পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা। জানি না খরচ তুলতে পারবো কিনা। তবে আগেরবার সবজি চাষ করে লাভ ছিল।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ দিন দিন যে বেড়েই চলেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব সময় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের কয়েকটা প্রকল্প আছে– সেগুলোতে আমরা বীজ সরবরাহ করে থাকি। কৃষকরা যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের ঘেরে মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে যে আপনার খরচটা হয়, সেটা অনেকটা উঠে আসে সবিজ থেকে। ফলে কৃষকের ইনভেস্টমেন্ট কমে গিয়ে লাভের পরিমাণটা বেড়ে যায়। ফলে বেশির ভাগ কৃষকরা এখন মাছ চাষের পাশাপাশি এখন ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছে।

ঘেরে লবণাক্ত পানিতে মাছ, আর চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে নানা ধরনের সবজি। একই জমি ও পানির সমন্বিত ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় কৃষকের চাষাবাদের চিত্র। ঘেরে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বেড়িবাঁধে লাউ, কুমড়া, শসা, বরবটি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে তাজা সবজি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে এ ধরনের সমন্বিত চাষাবাদ। বিশেষ করে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে প্রচলিত ফসল উৎপাদন কঠিন, সেসব এলাকার ঘেরের বেড়িবাঁধকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাছের ঘেরের চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে বাঁশের মাচা তৈরি করে লাউ, কুমড়া ও শসার লতা ঝুলছে। কোথাও সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স ও বরবটি। নিচে ঘেরের পানিতে চিংড়ি, রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে একই জায়গা থেকে মাছ ও সবজি দুই ধরনের উৎপাদন পাচ্ছেন চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ঘেরের বেড়িবাঁধে ২ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। ২০২৩ সালে এ আবাদ ছিল ৯৪০ হেক্টর। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭ হেক্টরে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ঘেরের পাড়ে সবজি চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছের ঘেরের সঙ্গে বেড়িবাঁধে সবজি চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘেরের পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন করলে লাভবান হওয়া যাবে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের স্থানীয় কৃষক চঞ্চল রায় বলেন, আগে ঘেরে শুধু মাছ চাষ করতাম। এতে কয়েক বছর লসের শিকার হয়েছে। তবে গত দুই বছর ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করছি। মোটামুটি এখন দুইদিকে ভালো লাভ পাচ্ছি।
একই গ্রামের ধর্ম রায় নামের কৃষক বলেন, ঘেরের চারপাশের বাঁধের জমি আগে অনেকটাই খালি পড়ে থাকত। এখন সেখানে সবজি চাষ করছি। ঘের থেকে মাছ বিক্রি করি, আবার বাঁধের সবজিও বাজারে বিক্রি হয়। সবজিতে এ বছরে আমার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তবে এই পর্যন্ত আমি সবজি বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। এতে একই জায়গা থেকে দুই দিকের আয় হচ্ছে এবং দুইদিকে সমান লাভবান পাচ্ছি।

অন্যদিকে গ্রামের ঠাকুর মণ্ডল নামের কৃষকের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেকের ফসল পুড়ে মারা গেছে। ফলে অনেকেই নতুন করে বীজ রোপণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আমার চাষাবাদ করতে খরচ হয়েছে পাঁচ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা। তবে ফসল বিক্রি করেছি এই পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা। জানি না খরচ তুলতে পারবো কিনা। তবে আগেরবার সবজি চাষ করে লাভ ছিল।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ দিন দিন যে বেড়েই চলেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব সময় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের কয়েকটা প্রকল্প আছে– সেগুলোতে আমরা বীজ সরবরাহ করে থাকি। কৃষকরা যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের ঘেরে মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে যে আপনার খরচটা হয়, সেটা অনেকটা উঠে আসে সবিজ থেকে। ফলে কৃষকের ইনভেস্টমেন্ট কমে গিয়ে লাভের পরিমাণটা বেড়ে যায়। ফলে বেশির ভাগ কৃষকরা এখন মাছ চাষের পাশাপাশি এখন ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছে।

ঘেরে মাছ, পাড়ে সবজি: বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের চাষাবাদ
মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা

ঘেরে লবণাক্ত পানিতে মাছ, আর চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে নানা ধরনের সবজি। একই জমি ও পানির সমন্বিত ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় কৃষকের চাষাবাদের চিত্র। ঘেরে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বেড়িবাঁধে লাউ, কুমড়া, শসা, বরবটি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে তাজা সবজি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে এ ধরনের সমন্বিত চাষাবাদ। বিশেষ করে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে প্রচলিত ফসল উৎপাদন কঠিন, সেসব এলাকার ঘেরের বেড়িবাঁধকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাছের ঘেরের চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে বাঁশের মাচা তৈরি করে লাউ, কুমড়া ও শসার লতা ঝুলছে। কোথাও সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স ও বরবটি। নিচে ঘেরের পানিতে চিংড়ি, রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে একই জায়গা থেকে মাছ ও সবজি দুই ধরনের উৎপাদন পাচ্ছেন চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ঘেরের বেড়িবাঁধে ২ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। ২০২৩ সালে এ আবাদ ছিল ৯৪০ হেক্টর। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭ হেক্টরে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ঘেরের পাড়ে সবজি চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছের ঘেরের সঙ্গে বেড়িবাঁধে সবজি চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘেরের পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন করলে লাভবান হওয়া যাবে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের স্থানীয় কৃষক চঞ্চল রায় বলেন, আগে ঘেরে শুধু মাছ চাষ করতাম। এতে কয়েক বছর লসের শিকার হয়েছে। তবে গত দুই বছর ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করছি। মোটামুটি এখন দুইদিকে ভালো লাভ পাচ্ছি।
একই গ্রামের ধর্ম রায় নামের কৃষক বলেন, ঘেরের চারপাশের বাঁধের জমি আগে অনেকটাই খালি পড়ে থাকত। এখন সেখানে সবজি চাষ করছি। ঘের থেকে মাছ বিক্রি করি, আবার বাঁধের সবজিও বাজারে বিক্রি হয়। সবজিতে এ বছরে আমার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তবে এই পর্যন্ত আমি সবজি বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। এতে একই জায়গা থেকে দুই দিকের আয় হচ্ছে এবং দুইদিকে সমান লাভবান পাচ্ছি।

অন্যদিকে গ্রামের ঠাকুর মণ্ডল নামের কৃষকের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেকের ফসল পুড়ে মারা গেছে। ফলে অনেকেই নতুন করে বীজ রোপণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আমার চাষাবাদ করতে খরচ হয়েছে পাঁচ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা। তবে ফসল বিক্রি করেছি এই পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা। জানি না খরচ তুলতে পারবো কিনা। তবে আগেরবার সবজি চাষ করে লাভ ছিল।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ দিন দিন যে বেড়েই চলেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব সময় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের কয়েকটা প্রকল্প আছে– সেগুলোতে আমরা বীজ সরবরাহ করে থাকি। কৃষকরা যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের ঘেরে মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে যে আপনার খরচটা হয়, সেটা অনেকটা উঠে আসে সবিজ থেকে। ফলে কৃষকের ইনভেস্টমেন্ট কমে গিয়ে লাভের পরিমাণটা বেড়ে যায়। ফলে বেশির ভাগ কৃষকরা এখন মাছ চাষের পাশাপাশি এখন ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছে।

৩৫ হাজার মুক্তায় সেজেছে দুর্গা, দেখতে দর্শনার্থীর ভিড়







