শিরোনাম

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে শিক্ষকদের অবসরসুবিধার অর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে শিক্ষকদের অবসরসুবিধার অর্থ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যানার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ পেতে শুরু করেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রাপ্য সুবিধার একাংশের অর্থ ছাড় করেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড এবং শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট। এতে বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবসরসুবিধার ক্ষেত্রে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জনের অনুকূলে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকেই অর্থ পেয়েছেন। বাকিদের পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে চার হাজারের বেশি আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের অর্থ আপাতত ছাড় করা যায়নি। আবেদনে তথ্যগত ভুল থাকায় আরও কিছু আবেদন আটকে রয়েছে।

অন্যদিকে, কল্যাণসুবিধার আওতায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আবেদন করা ৫৩ হাজার ৪৭৭ জনের জন্য প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ দুই ধরনের সুবিধাই পেয়ে থাকেন।

দীর্ঘদিন ধরে অবসরসুবিধার অর্থ পেতে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর এই জটিলতা আরও বেড়ে যায়। এ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। ফলে অবসরের পর প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিলো।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে আবেদনকারীদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হয় এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি তাদের জানানো হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টাকা না পাওয়ার কারণ জানতে শিক্ষক-কর্মচারী ও তাদের স্বজনেরা ভিড় করছেন। কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও আবেদনের তথ্যের মধ্যে সামান্য অসামঞ্জস্য থাকলেও টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ভুল সংশোধনের পর আবার অর্থ পাঠানো হবে। তবে এবার যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা পুরো প্রাপ্য নয়। চাকরিকালে বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার একটি অংশ আপাতত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবসরসুবিধার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধায় সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ধাপে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরো অর্থ পরিশোধে বড় ধরনের অর্থসংকট রয়েছে। অবসরসুবিধার জন্য বর্তমানে প্রতি মাসে চাঁদা থেকে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা জমা হলেও অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে প্রয়োজন প্রায় ২১০ কোটি টাকা। ফলে প্রতি মাসেই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জনের অবসরসুবিধার অর্থ দিতে প্রায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ অবসরসুবিধা বোর্ডে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। কল্যাণসুবিধার আবেদনকারীদের পুরো অর্থ পরিশোধে আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।

জানা গেছে, সরকার ইতিমধ্যে অবসরসুবিধা বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২০০ কোটি টাকার বন্ড দিয়েছে। এর আগে দেওয়া হয়েছিল আরও ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড। তবে বন্ডের মুনাফা ছয় মাস পরপর পাওয়ায় দ্রুত সব পাওনা পরিশোধে নগদ বা বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতেই একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অনুকূলে সুবিধার একাংশ দেওয়া হয়েছে। পুরো অর্থ পরিশোধে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।

/এসবি/