৭৯ বছর পর চালু হলো ঢাকা-আসাম নৌপথ, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসছে ৫৪০ টন মিথানল

৭৯ বছর পর চালু হলো ঢাকা-আসাম নৌপথ, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসছে ৫৪০ টন মিথানল
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭৯ বছর বন্ধ থাকা ভারতের আসামের ডিব্রুগড় ও বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে পুরোনো নৌপথে আবারও পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এই নৌপথে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতার মাধ্যমে চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র বন্দরও বন্ধ হয়ে যায়।
ডেকান হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল গতকাল সোমবার আসামের বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
অনুষ্ঠানে সনোয়াল বলেন, ডিব্রুগড়ের ঘাটে একসময় স্টিমারের বাঁশির শব্দ শোনা যেত। দীর্ঘদিন ঘাটটি বন্ধ থাকায় সেই শব্দও থেমে গিয়েছিল। এখন আবার ডিব্রুগড় থেকে একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিদেশি বাজারে পণ্য পরিবহনে ব্রহ্মপুত্রকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে এবারের নৌযাত্রাকে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। আসামের নিজস্ব পণ্য নিজস্ব নদীপথে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এ শহরে আসত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’ চালু হয়। ১৯১৩ সাল নাগাদ ব্রহ্মপুত্র দিয়ে প্রতিদিন স্টিমার ডিব্রুগড়ে যাতায়াত করত। এসব নৌযানে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করা হতো।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নৌপথটিতে ছেদ পড়ে। এরপর আসামের পণ্য কলকাতায় নিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যেতে হতো। ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে ডিব্রুগড় এলাকায় নদীর তলদেশের গঠনে পরিবর্তন আসে। ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য বুকিং বন্ধ হয়ে যায়। পরে চা পরিবহন রেলপথে চলে যাওয়ায় ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে আন্তঃসীমান্ত নদীপথে বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নদীপথে বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি প্রটোকল সই করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তবে এই নৌপথে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হতে আরও কয়েক দশক সময় লাগে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটির পান্ডু থেকে পশ্চিম আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত সিমেন্ট পরিবহনের মাধ্যমে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হয়। ধুবড়ি বাংলাদেশের সঙ্গে নদী ও সড়কপথে সংযুক্ত।
এরপর এই নৌপথে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের একটি বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ নামের নদীভ্রমণ জাহাজ বাংলাদেশ হয়ে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় যায়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চালু হয়।
ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণও গত এক যুগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে ভারত। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা এবং পান্ডু বন্দরের সঙ্গে শেষ মাইলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে।
নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, নদীপথে পণ্য পরিবহনে জ্বালানি খরচ কমে এবং মহাসড়কে ট্রাকের চাপও কমে। আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে ভারত কাজ করছে।
এবারের নৌযাত্রায় ভারতের ইংল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া, আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস, কোচিন বাঙ্কার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭৯ বছর বন্ধ থাকা ভারতের আসামের ডিব্রুগড় ও বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে পুরোনো নৌপথে আবারও পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এই নৌপথে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতার মাধ্যমে চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র বন্দরও বন্ধ হয়ে যায়।
ডেকান হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল গতকাল সোমবার আসামের বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
অনুষ্ঠানে সনোয়াল বলেন, ডিব্রুগড়ের ঘাটে একসময় স্টিমারের বাঁশির শব্দ শোনা যেত। দীর্ঘদিন ঘাটটি বন্ধ থাকায় সেই শব্দও থেমে গিয়েছিল। এখন আবার ডিব্রুগড় থেকে একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিদেশি বাজারে পণ্য পরিবহনে ব্রহ্মপুত্রকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে এবারের নৌযাত্রাকে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। আসামের নিজস্ব পণ্য নিজস্ব নদীপথে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এ শহরে আসত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’ চালু হয়। ১৯১৩ সাল নাগাদ ব্রহ্মপুত্র দিয়ে প্রতিদিন স্টিমার ডিব্রুগড়ে যাতায়াত করত। এসব নৌযানে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করা হতো।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নৌপথটিতে ছেদ পড়ে। এরপর আসামের পণ্য কলকাতায় নিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যেতে হতো। ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে ডিব্রুগড় এলাকায় নদীর তলদেশের গঠনে পরিবর্তন আসে। ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য বুকিং বন্ধ হয়ে যায়। পরে চা পরিবহন রেলপথে চলে যাওয়ায় ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে আন্তঃসীমান্ত নদীপথে বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নদীপথে বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি প্রটোকল সই করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তবে এই নৌপথে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হতে আরও কয়েক দশক সময় লাগে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটির পান্ডু থেকে পশ্চিম আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত সিমেন্ট পরিবহনের মাধ্যমে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হয়। ধুবড়ি বাংলাদেশের সঙ্গে নদী ও সড়কপথে সংযুক্ত।
এরপর এই নৌপথে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের একটি বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ নামের নদীভ্রমণ জাহাজ বাংলাদেশ হয়ে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় যায়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চালু হয়।
ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণও গত এক যুগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে ভারত। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা এবং পান্ডু বন্দরের সঙ্গে শেষ মাইলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে।
নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, নদীপথে পণ্য পরিবহনে জ্বালানি খরচ কমে এবং মহাসড়কে ট্রাকের চাপও কমে। আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে ভারত কাজ করছে।
এবারের নৌযাত্রায় ভারতের ইংল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া, আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস, কোচিন বাঙ্কার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

৭৯ বছর পর চালু হলো ঢাকা-আসাম নৌপথ, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসছে ৫৪০ টন মিথানল
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭৯ বছর বন্ধ থাকা ভারতের আসামের ডিব্রুগড় ও বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে পুরোনো নৌপথে আবারও পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এই নৌপথে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতার মাধ্যমে চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র বন্দরও বন্ধ হয়ে যায়।
ডেকান হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল গতকাল সোমবার আসামের বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
অনুষ্ঠানে সনোয়াল বলেন, ডিব্রুগড়ের ঘাটে একসময় স্টিমারের বাঁশির শব্দ শোনা যেত। দীর্ঘদিন ঘাটটি বন্ধ থাকায় সেই শব্দও থেমে গিয়েছিল। এখন আবার ডিব্রুগড় থেকে একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিদেশি বাজারে পণ্য পরিবহনে ব্রহ্মপুত্রকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে এবারের নৌযাত্রাকে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। আসামের নিজস্ব পণ্য নিজস্ব নদীপথে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এ শহরে আসত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’ চালু হয়। ১৯১৩ সাল নাগাদ ব্রহ্মপুত্র দিয়ে প্রতিদিন স্টিমার ডিব্রুগড়ে যাতায়াত করত। এসব নৌযানে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করা হতো।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নৌপথটিতে ছেদ পড়ে। এরপর আসামের পণ্য কলকাতায় নিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যেতে হতো। ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে ডিব্রুগড় এলাকায় নদীর তলদেশের গঠনে পরিবর্তন আসে। ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য বুকিং বন্ধ হয়ে যায়। পরে চা পরিবহন রেলপথে চলে যাওয়ায় ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে আন্তঃসীমান্ত নদীপথে বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নদীপথে বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি প্রটোকল সই করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তবে এই নৌপথে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হতে আরও কয়েক দশক সময় লাগে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটির পান্ডু থেকে পশ্চিম আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত সিমেন্ট পরিবহনের মাধ্যমে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হয়। ধুবড়ি বাংলাদেশের সঙ্গে নদী ও সড়কপথে সংযুক্ত।
এরপর এই নৌপথে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের একটি বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ নামের নদীভ্রমণ জাহাজ বাংলাদেশ হয়ে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় যায়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চালু হয়।
ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণও গত এক যুগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে ভারত। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা এবং পান্ডু বন্দরের সঙ্গে শেষ মাইলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে।
নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, নদীপথে পণ্য পরিবহনে জ্বালানি খরচ কমে এবং মহাসড়কে ট্রাকের চাপও কমে। আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে ভারত কাজ করছে।
এবারের নৌযাত্রায় ভারতের ইংল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া, আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস, কোচিন বাঙ্কার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সব জায়গা দখলমুক্ত থাকবে: নৌমন্ত্রী







