শিরোনাম

রমজান শুরু হলেও জমেনি ইসলামপুরের পাইকারি কাপড় বেচাকেনা

জবি প্রতিনিধি
রমজান শুরু হলেও জমেনি ইসলামপুরের পাইকারি কাপড় বেচাকেনা
রাজধানীর ইসলামপুরে ঐতিহ্যবাহী পাইকারি কাপড়ের বাজার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

‘দোকানে ক্রেতা আসছেন, বিভিন্ন ডিজাইন দেখছেন, দামও জানতে চাইছেন, কিন্তু আগের মতো বান্ডেল ধরে অর্ডার দিচ্ছেন না।’ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পাইকারি কাপড়ের বাজার ইসলামপুরের ব্যবসায়ী শরীফ হোসেনের এমন মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে চলতি মৌসুমের বাজারের চিত্র।

রমজান শুরু হলেও ঈদকে সামনে রেখে যে জমজমাট পাইকারি বেচাকেনার প্রত্যাশা ছিল ব্যবসায়ীদের, বাস্তবে এখনো তার তেমন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনেকেই। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বড় পরিসরে অর্ডার কম হওয়ায় বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ইসলামপুর পাইকারি কাপড়ের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন মার্কেটজুড়ে থ্রি-পিস, শাড়ি, থান কাপড়, পাঞ্জাবির কাপড় ও শিশুদের পোশাকের বিশাল সমাহার রয়েছে। নতুন ডিজাইন ও রঙিন পোশাকে সেজেছে দোকানগুলো।

তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও বড় পরিসরে অর্ডার তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জেলার খুচরা বিক্রেতারা এবার আগেভাগে বড় ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কেউ অল্প পরিমাণে পণ্য তুলছেন, আবার কেউ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে সিদ্ধান্ত নিতে অপেক্ষা করছেন। ফলে পাইকারি বাজারে প্রত্যাশিত গতি এখনো তৈরি হয়নি।

গুলশান আরা সিটি মার্কেট, জাহাঙ্গীর টাওয়ার এবং লায়ন টাওয়ার ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। দোকানগুলোতে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই; বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, অর্ডার কম থাকায় পণ্যের রোটেশন ধীর হয়ে গেছে। ফলে নতুন ডিজাইন আনতেও অনেকেই সতর্ক অবস্থানে আছেন। কেউ কেউ বলছেন, ক্রেতারা দাম আরও কমার অপেক্ষায় আছেন; আবার কেউ বলছেন, নির্বাচনের একটা বড় প্রভাবও বাজারে রয়েছে।

শিশুদের পোশাক ও থ্রি-পিসের বাজারেও একই ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। শিশুদের থ্রি-পিস ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় এবং পাইকারি বান্ডেল ৪৫০০ থেকে ১২,০০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত বছরের তুলনায় বিক্রি কম বলে জানান বিক্রেতারা। চায়না কাপড়ের প্রতি গজ ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার পণ্যের চাহিদাই তুলনামূলক বেশি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, খুচরা বিক্রেতারা এখন বেশ হিসাব করে পণ্য তুলছেন। আগে যেখানে একবারে বড় চালান নেওয়া হতো, এখন অনেকেই অল্প পরিমাণে কিনছেন। এতে পাইকারি বাজারে স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য এখনো ফিরে আসেনি।

কাটা কাপড়ের বাজারেও চাপ তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অনেক পাইকারি ক্রেতা কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন। তারা খুচরা বাজারের বিক্রির গতি পর্যবেক্ষণ করে পরে বড় অর্ডার দিতে চান। ফলে বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও প্রত্যাশিত বেচাকেনা হচ্ছে না।

তবে সামগ্রিকভাবে বিক্রি ধীরগতির হলেও নারী পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে শাড়ি, থ্রি-পিস ও মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের প্রতি পাইকারি ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে নারীদের পোশাকের বাজার সবসময়ই বড় পরিসরের হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি থ্রি-পিস, প্রিন্টেড লন, কটন, লিনেন ও ফেন্সি কাপড়ের দোকানগুলোতে অন্যান্য সেগমেন্টের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার খুচরা বিক্রেতারা শুরুতেই নারীদের পোশাক বেশি তুলছেন, কারণ ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটায় এসব পণ্যের বিক্রি দ্রুত হয়। বিশেষ করে মাঝারি দামের থ্রি-পিস ও হালকা শাড়ির চাহিদা বেশি।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, ভারী কাজের পোশাক বা উচ্চমূল্যের শাড়ির তুলনায় এখন সাধারণ ব্যবহারযোগ্য, হালকা ও আরামদায়ক কাপড়ের বিক্রি বেশি হচ্ছে। গরমের কথা বিবেচনায় রেখে ক্রেতারা কটন, বয়েল ও সফট ফেব্রিকের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে মেয়েদের দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী কাপড় ও সহজ ডিজাইনের থ্রি-পিসের বিক্রি তুলনামূলক ভালো।

গুলশান আরা সিটি মার্কেটের মীম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার হাসান আলী বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাজার খুব একটা জমেনি। তবে মেয়েদের থ্রি-পিস ও শাড়ির অর্ডার অন্যান্য পণ্যের তুলনায় বেশি আসছে। জেলার দোকানদাররা প্রথমেই এগুলো তুলছেন, কারণ খুচরা বাজারে এসব পণ্যের বিক্রি দ্রুত হয়। আশা করছি, সামনে বিক্রি আরও বাড়বে।’

/জেএইচ/