শিরোনাম

নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির
ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং বিশেষ করে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করতে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

সম্প্রতি অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গভর্নরের দায়িত্বের আওতায় থাকা বিষয়গুলোতে যাতে কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গভর্নরের ব্যবসায়িক পরিচয়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে কি না– এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের সামনে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বড় সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিকূলতা ও ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কৌশল ও কর্মপথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর কোনগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বা হবে না, সে বিষয়েও স্বচ্ছতার স্বার্থে আগাম তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে দেখা দেওয়া ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতি বন্ধ করতে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতার বার্তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় টিআইবি ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিলেরও প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশ পুলিশ (এসবি), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বাংলাদেশ পুলিশ (ডিবি) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশ (এনএসআই) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং র‍্যাপিড একশন ব্যাটলিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএ/