শিরোনাম

হাদি হত্যা: সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাদি হত্যা: সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা
শরিফ ওসমান বিন হাদি ও তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘চাঁদাবাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা করেছে সিআইডি।

বাপ্পি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম আসামিও।

মামলার অভিযোগপত্রে পুলিশ বলেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির ‘পরিকল্পনাতেই’ হাদিকে হত্যা করা হয়, তবে তিনি পলাতক রয়েছেন।

এবার সিআইডির করা মামলায় বাপ্পি ছাড়াও নাম না জানা আরো ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পল্লবী থানায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মামলাটি করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিআইডি। পল্লবী এলাকায় পরিবহন, ফুটপাতের অস্থায়ী বাজার, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে বাপ্পির আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য উঠে আসার কথা জানিয়ে সিআইডি বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাপ্পির ঘোষিত আয় অনুযায়ী সম্পদের হিসেব মেলেনি। প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৬ টাকার উৎস পাওয়া যায়নি।

সিআইডি জানায়, পল্লবী থানার উত্তর সেনপাড়া এলাকায় জমি কেনার সময়ে বাপ্পি দলিলে প্রকৃত দাম গোপন করেছেন।

দলিলে জমির মূল্য ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার উৎস গোপন করার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫১ টাকা অবৈধভাবে অর্জন, স্থানান্তর ও রূপান্তর করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাপ্পির বিভিন্ন হিসাবে লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকারও বেশি। বর্তমানে এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা আদালতের আদেশে জব্দ রয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

/এফসি/