আয়ের চেয়ে ৪৬% বেশি সম্পদ, দুদকের জালে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু

আয়ের চেয়ে ৪৬% বেশি সম্পদ, দুদকের জালে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু
মরিয়ম সেঁজুতি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানী দল তার বিরুদ্ধে মামলার জোর সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে নতুন কমিশন গঠনের ওপর।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কাউন্সিলর সেন্টুর নামে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার ঋণ ও দায়দেনা বাদ দিলে নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৩ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ১৩৮ টাকা।
এ ছাড়া তদন্তে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎসে পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ টাকা। অর্থাৎ, তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকা। শতাংশের হিসেবে যা তার আয়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ২৮ শতাংশের বেশি।
মামলার সুপারিশ ও আইনি জটিলতা
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সুপারিশ অনুমোদনের জন্য কমিশনের সভায় নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান দল মামলার সুপারিশ দিয়ে ফাইল জমা দিলেও বর্তমানে কমিশনের শীর্ষ পদগুলো শূন্য বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকায় চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার অপব্যবহার
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
বর্তমানে নথিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় কমিশনের বিশেষ তালিকায় রাখা হয়েছে। নতুন কমিশন গঠন করার পর প্রথমিক তালিকায় থাকা এই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। সেই সময়ে কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এর বাইরে তার আরও কী পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে তার অনুসন্ধান চলে।
দুদকের নোটিশে বলা হয়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন সেন্টু। তাই নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি ওই সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হন, অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করেন, তাহলে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া নেবে দুদক।
২০২১ সালের তদন্ত অনুযায়ী দুদকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থাবর সম্পদের মধ্যে সেন্টুর নামে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ আহমেদ রোডে সাড়ে ৭ কাঠা জমিতে একটি বহুতল ভবন, কাঁটাসুরে ৮ কাঠার প্লট ও ২৩ কাঠার প্লট এবং তাজমহল রোডে ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে। এর বাইরেও সেন্টুর আরও অনেক সম্পদ রয়েছে, যা পৈতৃক সূত্রে অর্জন করেন বলে দাবি তার। তবে দালিলিকভাবে এসব সম্পত্তির মূল্য অনেক কম দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকার বেশি।
দুদক সূত্র আরও জানায়, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু ২০১৮-১৯ করবর্ষের দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে দুই কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০ টাকার দায়দেনা দেখান। এসব দেনা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেখানো ঋণের মধ্যে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণের যৌক্তিক কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক। এ ছাড়া বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স হিসেবে ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা দেখানো হয়, তারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। তবে পূবালী ব্যাংক থেকে গাড়ি কেনা বাবদ সাত লাখ ৩৩ হাজার টাকার ঋণ ও বাসা ভাড়া বাবদ অগ্রিম ৫৪ লাখ টাকাসহ মোট ৬১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৬ টাকা ঋণের তথ্য দুদকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানী দল তার বিরুদ্ধে মামলার জোর সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে নতুন কমিশন গঠনের ওপর।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কাউন্সিলর সেন্টুর নামে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার ঋণ ও দায়দেনা বাদ দিলে নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৩ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ১৩৮ টাকা।
এ ছাড়া তদন্তে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎসে পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ টাকা। অর্থাৎ, তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকা। শতাংশের হিসেবে যা তার আয়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ২৮ শতাংশের বেশি।
মামলার সুপারিশ ও আইনি জটিলতা
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সুপারিশ অনুমোদনের জন্য কমিশনের সভায় নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান দল মামলার সুপারিশ দিয়ে ফাইল জমা দিলেও বর্তমানে কমিশনের শীর্ষ পদগুলো শূন্য বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকায় চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার অপব্যবহার
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
বর্তমানে নথিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় কমিশনের বিশেষ তালিকায় রাখা হয়েছে। নতুন কমিশন গঠন করার পর প্রথমিক তালিকায় থাকা এই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। সেই সময়ে কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এর বাইরে তার আরও কী পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে তার অনুসন্ধান চলে।
দুদকের নোটিশে বলা হয়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন সেন্টু। তাই নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি ওই সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হন, অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করেন, তাহলে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া নেবে দুদক।
২০২১ সালের তদন্ত অনুযায়ী দুদকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থাবর সম্পদের মধ্যে সেন্টুর নামে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ আহমেদ রোডে সাড়ে ৭ কাঠা জমিতে একটি বহুতল ভবন, কাঁটাসুরে ৮ কাঠার প্লট ও ২৩ কাঠার প্লট এবং তাজমহল রোডে ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে। এর বাইরেও সেন্টুর আরও অনেক সম্পদ রয়েছে, যা পৈতৃক সূত্রে অর্জন করেন বলে দাবি তার। তবে দালিলিকভাবে এসব সম্পত্তির মূল্য অনেক কম দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকার বেশি।
দুদক সূত্র আরও জানায়, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু ২০১৮-১৯ করবর্ষের দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে দুই কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০ টাকার দায়দেনা দেখান। এসব দেনা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেখানো ঋণের মধ্যে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণের যৌক্তিক কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক। এ ছাড়া বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স হিসেবে ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা দেখানো হয়, তারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। তবে পূবালী ব্যাংক থেকে গাড়ি কেনা বাবদ সাত লাখ ৩৩ হাজার টাকার ঋণ ও বাসা ভাড়া বাবদ অগ্রিম ৫৪ লাখ টাকাসহ মোট ৬১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৬ টাকা ঋণের তথ্য দুদকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

আয়ের চেয়ে ৪৬% বেশি সম্পদ, দুদকের জালে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু
মরিয়ম সেঁজুতি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানী দল তার বিরুদ্ধে মামলার জোর সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে নতুন কমিশন গঠনের ওপর।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কাউন্সিলর সেন্টুর নামে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার ঋণ ও দায়দেনা বাদ দিলে নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৩ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ১৩৮ টাকা।
এ ছাড়া তদন্তে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎসে পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ টাকা। অর্থাৎ, তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকা। শতাংশের হিসেবে যা তার আয়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ২৮ শতাংশের বেশি।
মামলার সুপারিশ ও আইনি জটিলতা
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সুপারিশ অনুমোদনের জন্য কমিশনের সভায় নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান দল মামলার সুপারিশ দিয়ে ফাইল জমা দিলেও বর্তমানে কমিশনের শীর্ষ পদগুলো শূন্য বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকায় চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার অপব্যবহার
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
বর্তমানে নথিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় কমিশনের বিশেষ তালিকায় রাখা হয়েছে। নতুন কমিশন গঠন করার পর প্রথমিক তালিকায় থাকা এই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। সেই সময়ে কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এর বাইরে তার আরও কী পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে তার অনুসন্ধান চলে।
দুদকের নোটিশে বলা হয়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন সেন্টু। তাই নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি ওই সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হন, অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করেন, তাহলে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া নেবে দুদক।
২০২১ সালের তদন্ত অনুযায়ী দুদকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থাবর সম্পদের মধ্যে সেন্টুর নামে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ আহমেদ রোডে সাড়ে ৭ কাঠা জমিতে একটি বহুতল ভবন, কাঁটাসুরে ৮ কাঠার প্লট ও ২৩ কাঠার প্লট এবং তাজমহল রোডে ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে। এর বাইরেও সেন্টুর আরও অনেক সম্পদ রয়েছে, যা পৈতৃক সূত্রে অর্জন করেন বলে দাবি তার। তবে দালিলিকভাবে এসব সম্পত্তির মূল্য অনেক কম দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকার বেশি।
দুদক সূত্র আরও জানায়, সাবেক কাউন্সিলর সেন্টু ২০১৮-১৯ করবর্ষের দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে দুই কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০ টাকার দায়দেনা দেখান। এসব দেনা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেখানো ঋণের মধ্যে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণের যৌক্তিক কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক। এ ছাড়া বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স হিসেবে ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা দেখানো হয়, তারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। তবে পূবালী ব্যাংক থেকে গাড়ি কেনা বাবদ সাত লাখ ৩৩ হাজার টাকার ঋণ ও বাসা ভাড়া বাবদ অগ্রিম ৫৪ লাখ টাকাসহ মোট ৬১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৬ টাকা ঋণের তথ্য দুদকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।




