শিরোনাম

‘তিন দিন ধরে সীমান্তে বইসা আছি, কোনো দেশেই নিচ্ছে না’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
‘তিন দিন ধরে সীমান্তে বইসা আছি, কোনো দেশেই নিচ্ছে না’
কুড়িগ্রামের গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার শিশুসহ৬ জন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ৬ ব্যক্তি তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী আছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো এসব মানুষের একজন সুমি আক্তার। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘তিন দিন ধরে সীমান্তে বইসা আছি। কোনো দেশেই নিচ্ছে না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ারও উপায় নাই। চারদিকে দুই দেশের বাহিনী ও মানুষ ঘিরে আছে। না খাইতে পেরে বুকের দুধ শুকায় গেছে। বাচ্চাডা ঠিক মতো দুধ পায় না।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকার শূন্যরেখায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৬ জন অবস্থান করছেন। তাদের চারপাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খাবার ও পানি খেয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন।

সুমি আক্তার বলেন, ‘ভাই, আমগোর জীবন গেলে যাক, আমগোর বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এভাবে আর দুইডা দিন ফালায় রাখলে বাচ্চাগুলো মরে যাবে।’

সীমান্তে এক মায়ের আকুতি ২

সেখানে দেখা যায়, সুমি আক্তারের বড় মেয়ে ফাতেমা খাতুন বাবার কোলে শুয়ে আছে। ছোট শিশু ফাহিমা খাতুন বারবার কান্না করছে। সুমি কখনো তার মুখে পানি দিচ্ছেন, কখনো বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা হলেন– ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, তাদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা এবং একই গ্রামের সজীব মিয়া ও হিমেল মিয়া।

সীমান্তে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় ভারতে গেছিলাম। পরে সেই দেশে আটক হই। গত রবিবার ভোরে কাঁটাতার পার করে দিছে। তিন দিন ধইরা নো ম্যানস ল্যান্ডে বসে আছি। আমরা বাংলাদেশি।’

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রবিবার ভোরে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ, দুই শিশুসহ ৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা ও বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এরপর থেকে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুশ ইন চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।’

/এসআর/