মাটির নিচে মিললো মন্দিরের চুরি হওয়া কালীমূর্তি, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
মাটির নিচে মিললো মন্দিরের চুরি হওয়া কালীমূর্তি, গ্রেপ্তার ৪
উদ্ধারকৃত কালীমূর্তি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের লোহার দরজা, শাটার, সামনের কাঠের দরজা ও কেচি গেটে তালা লাগিয়ে যান সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে পূজা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের সব তালা কাটা এবং দরজা খোলা। এ সময় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি দেখতে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো। একই সঙ্গে মূর্তির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, পিতলের বিভিন্ন প্রতিমা ও রৌপ্যের অলংকারও চুরি হয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন কুশল চক্রবর্তী। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম, তার মা সাজেদা বেগম এবং বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও আতিয়ার রহমান।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া, আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী থানার রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, সাদ্দামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী বাজারের স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকান মালিক আতিয়ার রহমানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি হওয়া প্রতিমার কানের দুল, টিকলিসহ অন্যান্য অলংকার গলিয়ে তৈরি করা প্রায় আট আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটির ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা ও প্রায় ৩০ ভরি রৌপ্যের অলংকার চুরি হওয়ার অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটি মামলা রয়েছে ।

পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি বলেন, উদ্ধার হওয়া কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও অন্যান্য প্রতিমাসহ সব আলামত মামলার তদন্তে সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

/এফআর/