শিরোনাম

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ

দিনাজপুর সংবাদদাতা
দিনাজপুর সংবাদদাতা
বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ
মোশাররফ হোসেন

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ হোসেন। দুর্বলতার সুযোগে বুঝে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। অবশেষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

মোশাররফ হোসেনের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি দেখে মনে হবে খুবই মেধাবী এক যুবক। ফেসবুক পোস্টে মোশাররফ হোসেন লিখেছেন, তিনি টিকেছেন ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে, ৪৭তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে, এমন কী ৪৯তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারেও। বিভিন্ন সরকারি চাকরির সুপারিশপ্রাপ্তির ভুয়া খবর তার ফেসবুক জুড়ে।

মোশাররফ হোসেন
মোশাররফ হোসেন

ছাত্রাবাসের বাসিন্দারা জানান, নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ছাত্রাবাসে ওঠেন মোশাররফ। কয়েক দিন আগে তারা জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ছাত্রাবাস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। মঙ্গলবার ভোরে মালামাল নিতে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার প্রতারণার নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। তিনি মাধ্যমিক পাস বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মোশাররফের আটকের খবর পেয়ে রাঙামাটি থেকে প্রতারণার শিকার দাবি করা এক তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায়। এ ছাড়া নীলফামারী থেকেও এক তরুণীর অভিভাবকও যোগাযোগ করেছেন থানায়। মোশাররফের ব্যবহৃত মুঠোফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাঙামাটি থেকে আসা ওই তরুণী বলেন, কয়েক মাস আগে মুঠোফোনে মোশাররফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত মার্চ মাসে মোশাররফ তাকে জানান, তিনি ৪৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে আমার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে টাকা ফেরত না পেয়ে কক্সবাজার থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ বিভিন্ন তরুণীদের সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। মোশাররফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা বিচারাধীন।

/এসআর/