শিরোনাম

২০০৮ সালের পর সবচেয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন: ইইউ মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০৮ সালের পর সবচেয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন: ইইউ মিশন
ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রতিবেদন তুলে ধরেন। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ছবি: সংগৃহীত

স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার দিক থেকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০০৮ সালের পর এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল সত্যিকার অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক, এখানে মৌলিক স্বাধীনতাগুলোকে ব্যাপকভাবে সম্মান করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে উল্লেখ করে ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনি কাঠামো মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, অংশীদারদের আস্থা বজায় রেখেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইইউ পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিনটি সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং শান্ত ছিল। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ভোট শুরু, ভোটদান ও গণনার কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব পর্যায়ে দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইইউ পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিনটি সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং শান্ত ছিল। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ভোট শুরু, ভোটদান ও গণনার কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব পর্যায়ে দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সেই সঙ্গে বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অপতথ্যের কারণে সৃষ্ট গণপিটুনির আতঙ্ক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি আরও জানান, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘পুরানো সেই ধ্যান-ধারণা বা চর্চাগুলো বাদ দেওয়ার এখনই সময়, যেগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অগ্রগতির সঙ্গে যায় না। এখন সময় এসেছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার।’

দেশ এখন এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে আহ্বান জানাই, যেন তারা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে।
টমাস জ্যাচোভস্কি প্রধান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দল

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস জ্যাচোভস্কি বলেন, ‘দেশ এখন এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে আহ্বান জানাই, যেন তারা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ মিশন ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মোট ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই মিশন নির্বাচনের পরবর্তী পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করবে। এ ছাড়া আগামী মাসগুলোতে তারা একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যেখানে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলো আরও উন্নত করতে বিভিন্ন পরামর্শ বা সুপারিশ দেওয়া হবে।

/বিবি/