প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হলো ইট

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হলো ইট
সিটিজেন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে চলাচলযোগ্য করা হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি।
এরই মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই দিনে চৌকিরদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর তিনি তাঁর পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনে যান। সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার্থে কাঁচা সড়কটিতে তড়িঘড়ি করে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হলেও স্থায়ী উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সফর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তার পুরো অংশ থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। এতে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সড়কটি।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই বরাদ্দ ও কার্যাদেশ থাকা সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, সফর উপলক্ষে ইট বিছানো এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মিনহাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে রাস্তার ওপর ইট বসানো হলে এলাকাবাসী ভেবেছিলেন হয়তো স্থায়ী উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছিল। কিন্তু সফর শেষ হওয়ার পর ইট তুলে নেওয়ায় এখন আবার কাদা ও পানির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। যেহেতু সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তাই স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগে অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ক্ষেত্রে ইট কেনা হয়নি, বরং ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট ক্রয় করলে ব্যয় অনেক বেশি হতো। তাই অস্থায়ী সোলিংয়ের জন্য ভাড়ায় ইট ব্যবহার করা হয়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ী-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কাঁচা সড়কে ইট বিছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে।
তিনি জানান, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ইটভাটা থেকে ইট এনে শ্রমিকদের মাধ্যমে রাস্তা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বাবদ অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ তার মনে নেই বলে উল্লেখ করেন।
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নকাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। জমি ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ী ইট বিছানোর পাশাপাশি আরও ১৫০ মিটার রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ করা হয়েছে। এসব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তা ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জি এম ফারুক। তিনি বলেন, কোনো সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য দরপত্র ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত। শুধু কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তার মতে, সফর উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে রাস্তা তৈরি করা এবং সফর শেষ হওয়ার পর তা খুলে ফেলার ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ খাতে যে অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব ও প্রয়োজনীয়তা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে চলাচলযোগ্য করা হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি।
এরই মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই দিনে চৌকিরদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর তিনি তাঁর পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনে যান। সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার্থে কাঁচা সড়কটিতে তড়িঘড়ি করে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হলেও স্থায়ী উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সফর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তার পুরো অংশ থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। এতে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সড়কটি।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই বরাদ্দ ও কার্যাদেশ থাকা সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, সফর উপলক্ষে ইট বিছানো এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মিনহাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে রাস্তার ওপর ইট বসানো হলে এলাকাবাসী ভেবেছিলেন হয়তো স্থায়ী উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছিল। কিন্তু সফর শেষ হওয়ার পর ইট তুলে নেওয়ায় এখন আবার কাদা ও পানির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। যেহেতু সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তাই স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগে অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ক্ষেত্রে ইট কেনা হয়নি, বরং ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট ক্রয় করলে ব্যয় অনেক বেশি হতো। তাই অস্থায়ী সোলিংয়ের জন্য ভাড়ায় ইট ব্যবহার করা হয়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ী-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কাঁচা সড়কে ইট বিছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে।
তিনি জানান, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ইটভাটা থেকে ইট এনে শ্রমিকদের মাধ্যমে রাস্তা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বাবদ অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ তার মনে নেই বলে উল্লেখ করেন।
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নকাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। জমি ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ী ইট বিছানোর পাশাপাশি আরও ১৫০ মিটার রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ করা হয়েছে। এসব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তা ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জি এম ফারুক। তিনি বলেন, কোনো সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য দরপত্র ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত। শুধু কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তার মতে, সফর উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে রাস্তা তৈরি করা এবং সফর শেষ হওয়ার পর তা খুলে ফেলার ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ খাতে যে অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব ও প্রয়োজনীয়তা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হলো ইট
সিটিজেন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে চলাচলযোগ্য করা হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি।
এরই মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই দিনে চৌকিরদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর তিনি তাঁর পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শনে যান। সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার্থে কাঁচা সড়কটিতে তড়িঘড়ি করে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হলেও স্থায়ী উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সফর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তার পুরো অংশ থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। এতে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সড়কটি।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই বরাদ্দ ও কার্যাদেশ থাকা সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, সফর উপলক্ষে ইট বিছানো এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মিনহাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে রাস্তার ওপর ইট বসানো হলে এলাকাবাসী ভেবেছিলেন হয়তো স্থায়ী উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছিল। কিন্তু সফর শেষ হওয়ার পর ইট তুলে নেওয়ায় এখন আবার কাদা ও পানির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। যেহেতু সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তাই স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগে অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ক্ষেত্রে ইট কেনা হয়নি, বরং ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট ক্রয় করলে ব্যয় অনেক বেশি হতো। তাই অস্থায়ী সোলিংয়ের জন্য ভাড়ায় ইট ব্যবহার করা হয়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ী-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কাঁচা সড়কে ইট বিছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে।
তিনি জানান, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ইটভাটা থেকে ইট এনে শ্রমিকদের মাধ্যমে রাস্তা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বাবদ অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ তার মনে নেই বলে উল্লেখ করেন।
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নকাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। জমি ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ী ইট বিছানোর পাশাপাশি আরও ১৫০ মিটার রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ করা হয়েছে। এসব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তা ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জি এম ফারুক। তিনি বলেন, কোনো সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য দরপত্র ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত। শুধু কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তার মতে, সফর উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে রাস্তা তৈরি করা এবং সফর শেষ হওয়ার পর তা খুলে ফেলার ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ খাতে যে অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব ও প্রয়োজনীয়তা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত।




