সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হবে এই খাতে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংখ্যা বর্তমানে ৯৫টি থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৯০টি করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪৫টি কর্মসূচি দরিদ্রবান্ধব হিসাবে পাবে ৫৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরে দরিদ্রবান্ধব ৩৮টি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ড: ৪১ লাখ পরিবার পাবে মাসিক আড়াই হাজার টাকা
সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলায় একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে মা বা নারী প্রধান এই কার্ড পাবেন।
তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যিনি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন তিনি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা একসঙ্গে নিতে পারবেন না। সুবিধাভোগীদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকার ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ নামে একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য থাকবে। প্রাথমিক জরিপে এক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যেখান থেকে ৪১ লাখ পরিবার বাছাই করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসাবে আগামী বছরে আরও ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষ ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আসবেন।
কৃষক কার্ড: সাড়ে ৪২ লাখ কৃষক পাবেন বাৎসরিক আড়াই হাজার টাকা
বর্তমান সরকারের আরেকটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার কেনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আবহাওয়ার তথ্যসহ মোট দশ ধরনের সুবিধা পাবেন।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল
আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরা মাসিক এক হাজার টাকা পাবেন।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাও মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এই খাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখে অপরিবর্তিত থাকছে। প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। আর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখের বেশি বাড়ানো হলেও ভাতা মাসিক ৮৫০ টাকাই থাকছে।
দুরারোগ্য রোগে এককালীন সহায়তা বাড়ল
ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এককালীন ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানের আহত ও শহিদ পরিবারের জন্য ভাতা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৬৬৯ জন ব্যক্তি আঘাতের তিনটি বিভাগের ভিত্তিতে মাসিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাবেন। আর জুলাই শহিদ ৮৪৪ জনের পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী পাবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্মীয় নেতাদের ভাতা
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এই চারটি বিভাগের মোট ৫৮৯ জনের মাসিক ভাতা আরও পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা মাসিক ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পান।
নতুন বাজেটে ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হচ্ছে। ইমামরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও মন্দির-গির্জা-মঠের তত্ত্বাবধায়কেরা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট সুবিধাভোগী থাকবেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন।
খাদ্য ও কর্মসংস্থান প্রকল্প
ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং বা ভিজিএফ প্রকল্পের অধীনে একীভূত নীতির আলোকে ১৫ লাখ দরিদ্র কর্মজীবী মানুষকে এক লাখ ১০ হাজার টন চালের সমমূল্যের নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার বেকার শ্রমিককে তিন মাস পর্যন্ত মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সবুজ কর্মসংস্থান প্রকল্প যেমন খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
দারিদ্র্যের বর্তমান চিত্র ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। দেশে মোট বিধবা নারীর সংখ্যা ৫৩ লাখ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেশীয় এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে এবারের বাজেটের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। ফলে সরকারের সামনে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আর্থিক ভারসাম্য রক্ষারও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সরকার দারিদ্র্যকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না বলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট হিসাবে দেখছে। এজন্য আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো বা ইউনিভার্সাল সোশ্যাল সেফটি নেট প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বাজেট বাস্তবায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান সরকারকে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে, যা তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শর্তসাপেক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও সরকারের ওপর রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বিস্তারিত কৌশল উল্লেখ করে একটি পৃথক সামাজিক সুরক্ষা বাজেট দলিল প্রকাশ করা হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হবে এই খাতে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংখ্যা বর্তমানে ৯৫টি থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৯০টি করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪৫টি কর্মসূচি দরিদ্রবান্ধব হিসাবে পাবে ৫৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরে দরিদ্রবান্ধব ৩৮টি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ড: ৪১ লাখ পরিবার পাবে মাসিক আড়াই হাজার টাকা
সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলায় একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে মা বা নারী প্রধান এই কার্ড পাবেন।
তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যিনি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন তিনি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা একসঙ্গে নিতে পারবেন না। সুবিধাভোগীদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকার ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ নামে একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য থাকবে। প্রাথমিক জরিপে এক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যেখান থেকে ৪১ লাখ পরিবার বাছাই করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসাবে আগামী বছরে আরও ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষ ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আসবেন।
কৃষক কার্ড: সাড়ে ৪২ লাখ কৃষক পাবেন বাৎসরিক আড়াই হাজার টাকা
বর্তমান সরকারের আরেকটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার কেনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আবহাওয়ার তথ্যসহ মোট দশ ধরনের সুবিধা পাবেন।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল
আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরা মাসিক এক হাজার টাকা পাবেন।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাও মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এই খাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখে অপরিবর্তিত থাকছে। প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। আর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখের বেশি বাড়ানো হলেও ভাতা মাসিক ৮৫০ টাকাই থাকছে।
দুরারোগ্য রোগে এককালীন সহায়তা বাড়ল
ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এককালীন ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানের আহত ও শহিদ পরিবারের জন্য ভাতা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৬৬৯ জন ব্যক্তি আঘাতের তিনটি বিভাগের ভিত্তিতে মাসিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাবেন। আর জুলাই শহিদ ৮৪৪ জনের পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী পাবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্মীয় নেতাদের ভাতা
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এই চারটি বিভাগের মোট ৫৮৯ জনের মাসিক ভাতা আরও পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা মাসিক ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পান।
নতুন বাজেটে ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হচ্ছে। ইমামরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও মন্দির-গির্জা-মঠের তত্ত্বাবধায়কেরা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট সুবিধাভোগী থাকবেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন।
খাদ্য ও কর্মসংস্থান প্রকল্প
ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং বা ভিজিএফ প্রকল্পের অধীনে একীভূত নীতির আলোকে ১৫ লাখ দরিদ্র কর্মজীবী মানুষকে এক লাখ ১০ হাজার টন চালের সমমূল্যের নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার বেকার শ্রমিককে তিন মাস পর্যন্ত মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সবুজ কর্মসংস্থান প্রকল্প যেমন খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
দারিদ্র্যের বর্তমান চিত্র ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। দেশে মোট বিধবা নারীর সংখ্যা ৫৩ লাখ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেশীয় এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে এবারের বাজেটের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। ফলে সরকারের সামনে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আর্থিক ভারসাম্য রক্ষারও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সরকার দারিদ্র্যকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না বলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট হিসাবে দেখছে। এজন্য আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো বা ইউনিভার্সাল সোশ্যাল সেফটি নেট প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বাজেট বাস্তবায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান সরকারকে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে, যা তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শর্তসাপেক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও সরকারের ওপর রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বিস্তারিত কৌশল উল্লেখ করে একটি পৃথক সামাজিক সুরক্ষা বাজেট দলিল প্রকাশ করা হবে।

সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হবে এই খাতে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংখ্যা বর্তমানে ৯৫টি থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৯০টি করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪৫টি কর্মসূচি দরিদ্রবান্ধব হিসাবে পাবে ৫৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরে দরিদ্রবান্ধব ৩৮টি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ড: ৪১ লাখ পরিবার পাবে মাসিক আড়াই হাজার টাকা
সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলায় একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে মা বা নারী প্রধান এই কার্ড পাবেন।
তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যিনি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন তিনি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা একসঙ্গে নিতে পারবেন না। সুবিধাভোগীদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকার ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ নামে একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য থাকবে। প্রাথমিক জরিপে এক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যেখান থেকে ৪১ লাখ পরিবার বাছাই করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসাবে আগামী বছরে আরও ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষ ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আসবেন।
কৃষক কার্ড: সাড়ে ৪২ লাখ কৃষক পাবেন বাৎসরিক আড়াই হাজার টাকা
বর্তমান সরকারের আরেকটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার কেনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আবহাওয়ার তথ্যসহ মোট দশ ধরনের সুবিধা পাবেন।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল
আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরা মাসিক এক হাজার টাকা পাবেন।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাও মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এই খাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখে অপরিবর্তিত থাকছে। প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। আর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখের বেশি বাড়ানো হলেও ভাতা মাসিক ৮৫০ টাকাই থাকছে।
দুরারোগ্য রোগে এককালীন সহায়তা বাড়ল
ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এককালীন ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানের আহত ও শহিদ পরিবারের জন্য ভাতা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৬৬৯ জন ব্যক্তি আঘাতের তিনটি বিভাগের ভিত্তিতে মাসিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাবেন। আর জুলাই শহিদ ৮৪৪ জনের পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী পাবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্মীয় নেতাদের ভাতা
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এই চারটি বিভাগের মোট ৫৮৯ জনের মাসিক ভাতা আরও পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা মাসিক ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পান।
নতুন বাজেটে ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হচ্ছে। ইমামরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও মন্দির-গির্জা-মঠের তত্ত্বাবধায়কেরা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট সুবিধাভোগী থাকবেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন।
খাদ্য ও কর্মসংস্থান প্রকল্প
ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং বা ভিজিএফ প্রকল্পের অধীনে একীভূত নীতির আলোকে ১৫ লাখ দরিদ্র কর্মজীবী মানুষকে এক লাখ ১০ হাজার টন চালের সমমূল্যের নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার বেকার শ্রমিককে তিন মাস পর্যন্ত মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সবুজ কর্মসংস্থান প্রকল্প যেমন খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
দারিদ্র্যের বর্তমান চিত্র ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। দেশে মোট বিধবা নারীর সংখ্যা ৫৩ লাখ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেশীয় এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে এবারের বাজেটের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। ফলে সরকারের সামনে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আর্থিক ভারসাম্য রক্ষারও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সরকার দারিদ্র্যকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না বলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট হিসাবে দেখছে। এজন্য আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো বা ইউনিভার্সাল সোশ্যাল সেফটি নেট প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বাজেট বাস্তবায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান সরকারকে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে, যা তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শর্তসাপেক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও সরকারের ওপর রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বিস্তারিত কৌশল উল্লেখ করে একটি পৃথক সামাজিক সুরক্ষা বাজেট দলিল প্রকাশ করা হবে।




