শিরোনাম

এবারের বাজেটে আইটি খাতে থাকছে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবারের বাজেটে আইটি খাতে থাকছে সুখবর
প্রতীকী ছবি

আগামীকাল ঘোষণা করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেটে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের জন্য থাকছে নানা সুখবর।

বাজেটে তরুণদের বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক কন্টেন্ট থেকে উপার্জিত আয় করমুক্ত করাসহ ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকছে। এছাড়াও বাজেটে তরুণদেরকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রেও টার্নওভার ট্যাক্স একেবারে শূন্য শতাংশে নিয়ে আসার প্রস্তাব থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয় করমুক্ত রাখা এবং স্টার্টআপের ওপর শূন্য শতাংশ টার্নওভার কর আরোপ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ক্রিয়েটর ইকোনমির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করতে এবারের বাজেটে কম্পিউটার, প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব থাকতে পারে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের আমদানি ব্যয় কমবে।

এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও থাকতে পারে।

এদিকে, টেলিযোগাযোগ খাতেও বেশ কিছু প্রস্তাব থাকতে পারে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে করের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং মোবাইল সিমে ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট ভ্যাট বাতিল করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে নতুন সিমের দাম কমতে পারে।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব থাকতে পারে। একইসঙ্গে বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি ও বিভিন্ন চার্জের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আসতে পারে।

দেশীয় প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে বাজেটে মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব থাকতে পারে।

এসব পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হতে পারে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এবারের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এসব সুখবরের ব্যাপারে বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডি জবসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর সিজেডএন২৪ ডটকমকে বলেন, আগেও ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনে ট্যাক্স ছিল না, এখনো নেই। অতএব এটা নতুন কিছু না। আর কম্পিউটার যন্ত্রাংশের উপরে যে কর কমতেছে, এই উদ্যোগ ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের মেইন দাবি ছিল মোবাইলে ইন্টারনেট ডাটার দাম কমানো। ২০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারী ট্যাক্স ছিল। কিন্তু, সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা দেখিনি। এটাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। এখন কালকে কী হয় জানি না।

/এমআর/