শিরোনাম

অপারেশন থিয়েটারে শিশুকে থাপ্পড়, ওটি বয় বরখাস্ত

বরিশাল সংবাদদাতা
অপারেশন থিয়েটারে শিশুকে থাপ্পড়, ওটি বয় বরখাস্ত
জি এম নাজমুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

খেলতে গিয়ে হাতের একটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মো. লিমন নামের এক শিশুর। এরপর সে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার সময় ভয়ে সে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় অপারেশন থিয়েটারের কর্মী (ওটি বয়) শিশুটিকে থাপ্পড় মারেন।

গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার শিশু মো. লিমনের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার পুকুরজানা গ্রামে। তার বাবার নাম লিটন সিকদার। সে স্থানীয় পুকুরজানা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী জি এম নাজমুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঈদ বোনাসসহ বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।

লিমনের চাচা মো. আনছার সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার খেলতে গিয়ে শাবলের আঘাতে তার ভাতিজার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই দিন বেলা ১টার দিকে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারা দিন কোনো চিকিৎসা হয়নি। রাত ৯টার দিকে নার্সরা এসে জানান, লিমনকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে হবে।

আনছার সিকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম। নাজমুল হাসান নামের ওটি বয় লিমনের হাতে ইনজেকশন দিতে চান। এ সময় ব্যথায় চিৎকার ও নড়াচড়া করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে লিমনের ডান গালে থাপ্পড় দেন। গালে তার আঙুলের ছাপ পড়ে ও চোখে রক্ত জমাট বাঁধে। চিকিৎসার স্বার্থে তখন কোনো প্রতিবাদ করিনি। ঘটনা প্রকাশ পেলে হাসপাতাল প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ পাওয়ার পর ওটি বয়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার ঈদ বোনাসসহ সব ধরনের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।

/এসআর/