শিরোনাম

ওয়াশিংটন-তেলআবিব টানাপোড়েন বাড়ছে

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
ওয়াশিংটন-তেলআবিব টানাপোড়েন বাড়ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে ফাটল। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যেই অসন্তোষ দেখাতে শুরু করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে লেবানন প্রসঙ্গও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তির পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেলআবিবের দূরত্ব বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বর্তমানে লেবাননের উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা দখল করা অঞ্চল ছাড়বে না। কিন্তু ইরান এই অবস্থানকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী হিসেবে দেখছে এবং বারবার সতর্ক করছে যে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কোনো সমঝোতা টিকবে না।

বৃহস্পতিবার ( ১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে। তিনি লেবানন, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলসহ সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন।

একই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে বিশ্ববাজার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতা বাড়লেও লেবাননে নতুন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন এখন পুরো চুক্তির সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি বলেন, তেহরান লেবানন ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীও সমালোচনায় সরব হয়েছে। আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) বলেছে, চুক্তির ভাষা এমন যে, এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে।

এদিকে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের নীতিবিষয়ক পরিচালক রায়ান কস্টেলো মনে করেন, লেবানন ইস্যুতে সমঝোতা ভেঙে গেলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে।

তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা একতরফা পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন নাও পেতে পারে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এসেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে।

সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সব নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রই তাদের প্রধান শক্তিশালী মিত্র।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ ডাসের মতে, ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন যে লেবাননে নেতানিয়াহুর অভিযান পুরো যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছেন এবং গাজা ও ইরান-দুই ক্ষেত্রেই সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ার পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে।

/এসবি/