শিরোনাম

রাজধানীতে গ্যাস সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রাজধানীতে গ্যাস সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশন, স্পিডবার্ড সিএনজি স্টেশন, টোটাল সিএনজি লিমিটেড, ডব্লিউ জেড সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং এবং আসমা আলী সিএনজি ফুয়েলিং অ্যান্ড ওয়ার্কশপে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন পড়ে। অনেক স্টেশনে দেড়শ থেকে দুই শতাধিক গাড়ি দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

উত্তরা থেকে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন বলেন, উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে রায়েরবাগের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দীর্ঘ লাইনে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

উবারচালক জাকির হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না পাওয়ায় তিনি মাতুয়াইলের একটি স্টেশনে আসেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত।

অটোরিকশাচালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে একই সময়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হতো।

স্টেশন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনের ক্যাশিয়ার রাজু বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।

শ্যামপুর এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে।

চালকদের অভিযোগ, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই গ্যাস পাননি। আবার যাঁরা পেয়েছেন, স্বল্পচাপের কারণে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকার সমপরিমাণ কম গ্যাস নিতে পেরেছেন। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।

এদিকে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাস–সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর ও স্মৃতিধারা এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ শুকনো খাবার খাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।

পলাশপুরের বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর ধরেই গ্যাস–সংকট চলছে। আগে গভীর রাতে কিছু সময় গ্যাস মিললেও গত চার–পাঁচ দিন ধরে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিয়মিত রান্না ও খাবার গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।

স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে, এতে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং নগরজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।

/এমআর/