শিরোনাম

গ্যাস সংকটে দিনের বেলা সরবরাহ বন্ধ, রাতে ২ ঘণ্টা সচল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস সংকটে দিনের বেলা সরবরাহ বন্ধ, রাতে ২ ঘণ্টা সচল
গ্যাস সংকটে পরিবাগের পদ্মা ওয়েল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে টাঙানো হয়েছে ‘গ্যাস নাই’ নোটিশ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানীর কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দিনের বেলা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে গ্যাস সরবরাহ। রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাসের চাপ বাড়লে চালু করা হয় গ্যাস। এতে প্রায়ই নানা ভোগান্তিতে পড়েন সিএনজি চালকরা।

রবিবার (৬ আগস্ট) রাতে ঢাকার জয়কালী মন্দির এলাকার এইচএস ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, রাত ৯টা থেকেই সিএনজি নেওয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি। প্রায় এক ঘণ্টা পরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত চলে সরবরাহ। সারাদিন গ্যাসের চাপ না থাকায় শুধু দুই ঘণ্টার জন্যই গ্যাস দিতে পেরেছে স্টেশনটি।

এর আগে দিনের বেলা সকালে রাজধানীর পরিবাগের পদ্মা ওয়েল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। সাইনবোর্ডে লেখা, ‘গ্যাস নাই’।

দিনের বেলায় সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নাই

পূর্বাচল ট্রেডার্স পদ্মা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, পরিবাগের সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের লাইন বন্ধ। স্টেশন পুরো ফাঁকা। কোনো গাড়ির চাপ নেই। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেল চালকরা তেল নিতে আসলে কোনো রকমে একটু ব্যস্ত হন।

সিএনজি স্টেশনের কর্মচারী মোহাম্মদ হানিফ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। রাত ১টার সময় আসে। আবার রাত ৩টার সময় চলে যায়। সিএনজি চালিত গাড়িগুলো সন্ধ্যা ৭টা থেকেই স্টেশনে সিরিয়াল দিতে থাকে। মাঝে মধ্যে অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্যাস না পেয়ে চলে যায়।

একই স্টেশনের দায়িত্বরত ম্যানেজার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে জানালেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দিনের বেলা সিএনজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ। রাত ১টার সময় গ্যাস আসে। তখন প্রচুর গাড়ির চাপ থাকে। দুই ঘণ্টা চাপ থাকে, পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য সিএনজি চালকরা এখন আর দিনের বেলা স্টেশনে আসে না। সন্ধ্যার পরে গাড়ি সিরিয়াল দিয়ে রাখে।

গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাতের বেলা গাড়ির দীর্ঘ লাইন, দুই ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ

ঢাকার জয়কালী মন্দিরের পাশে এইচএস ফিলিং স্টেশনে ঘুরে দেখা যায়, রাত তখন ৯টা। সিএনজি গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঠিক এক ঘণ্টা পরে গ্যাস দেওয়া শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ চলে।

এই স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা রিয়াজুল ইসলাম নামের এক সিএনজি চালক সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দীর্ঘ চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পরে ১৭৫ টাকার গ্যাস পেয়ে আমি খুব খুশি। রাতে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা ভালোই চালাতে পারবো।

আরেক সিএনজি চালক সায়াদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গ্যাস আমাদের সম্পদ আর আমরাই গ্যাস পাই না। তাহলে এই গ্যাস যায় কই? এর আগে তেল সংকট ছিল। তেল না হয় দেশের বাইরে থেকে আসে। আমদানি বন্ধ ছিল। এজন্য সংকট হয়েছে। গ্যাস কেন সংকট হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের ভোগান্তির শেষ কোথায়। দিনের বেলা তো কোনো গ্যাসই পাই না। মাঝে মধ্যে গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে হয়। আজকে ধোলাইপাড় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পাম্পের গেট খোলা পেয়ে ভিতরে ঢুকলাম। ভাগ্য ভালো, তাই ৪৭০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এ দিয়ে আগামীকাল দিনের বেলা গাড়ি চালাতে পারবো। এর আগে একদিন রাত ৯টা থেকে সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা করার পর ভোর ৬টার সময় গ্যাস পাই। পরে সেদিন আর গাড়ি চালাতেই পারি নি।’

সিএনজি স্টেশনের মূল গেটের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে গ্যাস না পেয়ে আক্ষেপ নিয়ে ফিরে যায় এক সিএনজি চালক। এ সময় তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিএনজি স্টেশনের কর্মচারী শাহিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, লাইনে গ্যাস আছে। কিন্তু যেটুকু আছে, এটুকু প্রেসার চালালে লস হয়। তাই মালিক চালায় না। এক মাস ধরে এই অবস্থা। আগে কিছু কিছু আসত, এখন দিনের বেলা একেবারেই আসে না।

এইচএস ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সজল চৌধুরী সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, গত এক সপ্তাহে আমরা মাত্র দুই দিন গ্যাস দিতে পারছি। আজকে রাত ১০টা থেকে শুরু করছি, যা ১২টা পর্যন্ত দিতে পারবো। নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১২টার পরে আমাদের স্টেশন বন্ধ করে দিতে হয়।

/এমআর/