শিরোনাম

গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে কী করছিলেন, জানালো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে কী করছিলেন, জানালো পুলিশ
উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ডিভাইস

একই ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে থাকতেন ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে ভবনটি থেকে সার্ভার, কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল তারা। আর প্রতারণার এই কাজে তাদের সাহায্য করতো দেশীয় একটি চক্র। গ্রেপ্তার ৬৩ জনের পাসপোর্ট ও ভিসা তাদের কাছে পাওয়া যায়নি। দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে সেসব রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ। গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলছে। সেখানে প্রতারণার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তারা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় দেড় মাস আগে তারা খুলশীর ওই আটতলা ভবনে ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভবনটির মালিক দুবাইপ্রবাসী।

ফয়সাল আহম্মদ বলেন, কখনো নিজেরা ওয়েবসাইট খুলে, আবার কখনো বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া নিতো এই প্রতারক চক্র। এসব প্রতারণার সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারের ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীর ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

/আরএ/