শিরোনাম

শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে তালাবদ্ধ প্রভোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে তালাবদ্ধ প্রভোস্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে। এসময় ভুক্তভোগী ছাত্রকে জোরপূর্বক ফোন করা, জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন ডাকসু নেতারা।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা প্রভোস্টের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সদস্য আনাস বিন মুনিরসহ একাধিক সদস্যকে দেখা যায়।

এর আগে, রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম হলের।

ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেন, আজ একটি আমি একটা পোস্ট শেয়ার করার কারণে প্রভোস্ট আমাকে ওনার অফিসে ডাকল। তিনি আগে ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক জুনিয়রকেও এভাবে রুমে ডেকে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছিলো । ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বের হয়েছিলো। এটি মাথায় থাকায় আমি রুমের প্রবেশের আগে ফোনের অডিও রেকর্ড অন করে প্রবেশ করি।

ইব্রাহীম লিখেন, উনি কথাবার্তা শুরু মাঝেই চিৎকার করে বলল, আমার পকেটে ফোন থাকলে তা বের করতে। আমি ফোন বের করতে না চাইলে উনি চিৎকার করে চেয়ার থেকে উঠে আসে। এসে আমার ফোন জোর করে নিয়ে নেয়। এমনভাবে কেড়ে নেয় যে, মনে হচ্ছে কয়েকজন গুন্ডা আমাকে ধরে ফেলেছে। আমি রুম থেকে বের হতে চাইলে স্টারফরা দরজা আটকে দেয়।

তিনি লিখেন, ‘প্রভোস্ট আমাকে বলেন, হল এর সিট বাতিল করে দিবে। ছাত্রত্ব বাতিল করা কোনো বিষয় না, ভিসি স্যার কে একটা এপ্লিকেশন লিখলেই ছাত্রত্ব বাতিল করে দিতে পারবে।’ সামান্য এই পোস্ট লিখার কারণে আমার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা করবে বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে, এমন সিচুয়েশনে কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে প্রায় দেড়ঘণ্টা আমাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়।

ইব্রাহীম লিখেন, একটি স্ক্রিপ্ট বানিয়ে আমার হাতে লিখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এমন কি এই ঘটনা আমাকে বাইরে শেয়ার করতেও নিষেধ করেন প্রভোস্ট। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

/এসবি/