শিরোনাম

মাঠ-অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
মাঠ-অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা
নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ক্রিকেট খেলে ‘ব্যতিক্রমী’ ক্ষোভ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক (রেজিস্ট্রার) ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে ‘ব্যতিক্রমী’ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবি আদায়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলের মাঠ ও বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণ কাজের সময় আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাইব্রেরির নির্মাণকাজ শেষ হলে মাঠটি পুনরায় সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরও গত তিন থেকে চার বছরে মাঠটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে খেলার মাঠসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও কামালউদ্দিন হলে এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। হলের ভেতরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংযোগ-রাস্তাও নেই। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হলের মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করাসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং ওয়াশরুমের পাশে থাকা ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন, হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-রাস্তা নির্মাণ, দ্রুত হলের খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করা এবং হলের চারপাশে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবরার হোসেন বলেন, হল সংসদ গঠনের আগ থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে এসব দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণে বিষয়গুলো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আমরা গত ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/এফআর/