জাকসু ভিপির রেফারেন্সে রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জাকসু ভিপির রেফারেন্সে রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে অটোরিকশা পরিচালনার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চালকদের কাছ থেকে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একজন কর্মচারীর নাম সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু নামও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবেদনপত্রে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সুপারিশ ব্যবহার করে চালকদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নাম ব্যবহার করে রিকশাচালকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে তিনি হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিটি রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন চালক।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগরের রনি চত্বর এলাকার একটি মুদি দোকানের পেছনে গোপনে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, চালকদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ গ্রহণের পর মনির হোসেন কয়েকজন চালকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের সতর্ক করেন। চালকদের তিনি বলেন, ‘কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলা হয়, আমি উনার কাছে টাকা পেতাম বা ধার নিয়েছিলাম, সেই টাকা দিয়েছি’। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ বা ঝামেলা সৃষ্টি করলে তাদের রিকশা পরিচালনার অনুমোদন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের এই প্রক্রিয়ায় শহীদ সালাম বরকত হল সংসদের ভিপি এবং রসায়ন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন সরাসরি জড়িত। কর্মচারী মনির হোসেন চালকদের আশ্বস্ত করে বলেন,‘অফিসে গেলে বা কোনো রকম সমস্যা হলে বলবা সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাই পাঠাইছে।’ শুধু তাই নয়, চালকদের কাছে দাবি করা হয় যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযোগের পক্ষে কিছু নথিপত্রও সামনে এসেছে। অটোরিকশা অনুমোদনের আবেদন ফর্ম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একাধিক ফর্মে সুপারিশকারী হিসেবে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় একটি ফর্মের সুপারিশ অংশে কারেকশন পেন ব্যবহার করে নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘষে ফেলার পরও লেখার কিছু অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া অন্য একটি আবেদনপত্রের কোণায় হাতে লেখা ‘জিতু/জাকসু’ শব্দ পাওয়া গেছে। যা সুপারিশের বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো রিকশাচালকের কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি একটি ছোট চাকরি করি। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।
অন্যদিকে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মারুফ হোসেনও অভিযোগ নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, মনির হোসেন কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। মনির ভাই একবার আমাকে বলেছিলেন, তার পরিচিত একজন ছেলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না। পরে আমি এস্টেট অফিসের কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। তার রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
এদিকে,আবেদনপত্রে সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অনেকেই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাই আমি সুপারিশ করেছি। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই সুপারিশ করেছেন। কিন্তু টাকা নেওয়া বা দেওয়ার কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। যদি কেউ লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাশেমও আবেদনপত্রে বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সুপারিশ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে অটোরিকশা পরিচালনার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চালকদের কাছ থেকে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একজন কর্মচারীর নাম সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু নামও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবেদনপত্রে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সুপারিশ ব্যবহার করে চালকদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নাম ব্যবহার করে রিকশাচালকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে তিনি হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিটি রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন চালক।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগরের রনি চত্বর এলাকার একটি মুদি দোকানের পেছনে গোপনে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, চালকদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ গ্রহণের পর মনির হোসেন কয়েকজন চালকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের সতর্ক করেন। চালকদের তিনি বলেন, ‘কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলা হয়, আমি উনার কাছে টাকা পেতাম বা ধার নিয়েছিলাম, সেই টাকা দিয়েছি’। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ বা ঝামেলা সৃষ্টি করলে তাদের রিকশা পরিচালনার অনুমোদন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের এই প্রক্রিয়ায় শহীদ সালাম বরকত হল সংসদের ভিপি এবং রসায়ন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন সরাসরি জড়িত। কর্মচারী মনির হোসেন চালকদের আশ্বস্ত করে বলেন,‘অফিসে গেলে বা কোনো রকম সমস্যা হলে বলবা সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাই পাঠাইছে।’ শুধু তাই নয়, চালকদের কাছে দাবি করা হয় যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযোগের পক্ষে কিছু নথিপত্রও সামনে এসেছে। অটোরিকশা অনুমোদনের আবেদন ফর্ম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একাধিক ফর্মে সুপারিশকারী হিসেবে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় একটি ফর্মের সুপারিশ অংশে কারেকশন পেন ব্যবহার করে নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘষে ফেলার পরও লেখার কিছু অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া অন্য একটি আবেদনপত্রের কোণায় হাতে লেখা ‘জিতু/জাকসু’ শব্দ পাওয়া গেছে। যা সুপারিশের বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো রিকশাচালকের কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি একটি ছোট চাকরি করি। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।
অন্যদিকে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মারুফ হোসেনও অভিযোগ নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, মনির হোসেন কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। মনির ভাই একবার আমাকে বলেছিলেন, তার পরিচিত একজন ছেলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না। পরে আমি এস্টেট অফিসের কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। তার রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
এদিকে,আবেদনপত্রে সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অনেকেই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাই আমি সুপারিশ করেছি। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই সুপারিশ করেছেন। কিন্তু টাকা নেওয়া বা দেওয়ার কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। যদি কেউ লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাশেমও আবেদনপত্রে বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সুপারিশ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

জাকসু ভিপির রেফারেন্সে রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে অটোরিকশা পরিচালনার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চালকদের কাছ থেকে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একজন কর্মচারীর নাম সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু নামও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবেদনপত্রে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সুপারিশ ব্যবহার করে চালকদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নাম ব্যবহার করে রিকশাচালকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে তিনি হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। অনুমোদন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিটি রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন চালক।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগরের রনি চত্বর এলাকার একটি মুদি দোকানের পেছনে গোপনে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, চালকদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ গ্রহণের পর মনির হোসেন কয়েকজন চালকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের সতর্ক করেন। চালকদের তিনি বলেন, ‘কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলা হয়, আমি উনার কাছে টাকা পেতাম বা ধার নিয়েছিলাম, সেই টাকা দিয়েছি’। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ বা ঝামেলা সৃষ্টি করলে তাদের রিকশা পরিচালনার অনুমোদন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের এই প্রক্রিয়ায় শহীদ সালাম বরকত হল সংসদের ভিপি এবং রসায়ন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন সরাসরি জড়িত। কর্মচারী মনির হোসেন চালকদের আশ্বস্ত করে বলেন,‘অফিসে গেলে বা কোনো রকম সমস্যা হলে বলবা সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাই পাঠাইছে।’ শুধু তাই নয়, চালকদের কাছে দাবি করা হয় যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযোগের পক্ষে কিছু নথিপত্রও সামনে এসেছে। অটোরিকশা অনুমোদনের আবেদন ফর্ম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একাধিক ফর্মে সুপারিশকারী হিসেবে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় একটি ফর্মের সুপারিশ অংশে কারেকশন পেন ব্যবহার করে নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘষে ফেলার পরও লেখার কিছু অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া অন্য একটি আবেদনপত্রের কোণায় হাতে লেখা ‘জিতু/জাকসু’ শব্দ পাওয়া গেছে। যা সুপারিশের বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. মনির হোসেন অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো রিকশাচালকের কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি একটি ছোট চাকরি করি। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।
অন্যদিকে, শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মারুফ হোসেনও অভিযোগ নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, মনির হোসেন কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। মনির ভাই একবার আমাকে বলেছিলেন, তার পরিচিত একজন ছেলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না। পরে আমি এস্টেট অফিসের কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। তার রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
এদিকে,আবেদনপত্রে সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অনেকেই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাই আমি সুপারিশ করেছি। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই সুপারিশ করেছেন। কিন্তু টাকা নেওয়া বা দেওয়ার কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। যদি কেউ লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাশেমও আবেদনপত্রে বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সুপারিশ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

জাবি মেডিকেল সেন্টারের ঔষধ গরমিলে তদন্ত কমিটি গঠন, কর্মকর্তা বরখাস্ত 






