শিরোনাম

ঈদ আনন্দ নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
ঈদ আনন্দ নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইলমা জাহান, আফরিতা মাহজাবিন অমি, সজিব মিয়া, জান্নাতুল মাওয়া ছিমিন, দুররি মাকতুম, সামিহা তাসনিম, সাদিয়া সুরভী, হাবিব হাসনাত। ছবি: সংগৃহীত

নগরজীবনের ব্যস্ততা, ক্লাস পরীক্ষার চাপ আর হল ও মেসকেন্দ্রিক একঘেয়ে দিনযাপনের মাঝেও ঈদুল আজহা শিক্ষার্থীদের মনে ছড়িয়ে দেয় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস। কারও কাছে ঈদ মানে বাড়ি ফেরা ও পরিবারের সান্নিধ্য; কারও কাছে ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার গভীর উপলব্ধি। কুরবানির মাংস ভাগাভাগি থেকে শুরু করে শৈশবের স্মৃতি, বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন আর শিকড়ে ফেরার আবেগ, বিভিন্ন অনুভূতি ও ভাবনায় ঈদকে দেখেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সেই ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিক শেখ শাহরিয়ার হোসেন

এক টুকরো ঈদ, এক ঝাঁক স্মৃতি

ঈদ মানেই আনন্দ, অনুভূতি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো কিছু বিশেষ মুহূর্ত। এবারের ঈদের অনুভূতিটা যেন একটু ভিন্ন। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার পর ছুটির অপেক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততা পেরিয়ে বাড়ি ফেরা, আবার ফিরে পাওয়া চেনা শহর আর আপন মানুষগুলো, সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে অন্যরকম এক আবেগের নাম। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিচিত পরিবেশের স্পর্শ পাওয়া আর নাড়ির টানে ফিরে যাওয়া প্রিয় শহরে এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই যেন লুকিয়ে থাকে ঈদের বড় আনন্দ। এই উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি হৃদয়ে, প্রতিটি পরিবারের মুহূর্ত হয়ে উঠুক আরও প্রাণবন্ত এই প্রত্যাশাই রইল।

ইলমা জাহান

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহ

জিলহজ মাসের দশ তারিখ ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর ত্যাগ, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের এক মহিমান্বিত উৎসব। হজরত ইব্রাহিম আঃ এর অসীম আনুগত্য ও আত্মত্যাগের ঘটনায় ঈদুল আজহার মূল প্রেরণা, যা আমাদের মূলত পশু কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এবং নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার শিক্ষা দেয় এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য শিক্ষা দেয়। ঈদুল আজহা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ধনী-গরিবের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করে। এই ত্যাগকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের উচিত আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত ঈদুল আজহার মূল বার্তা।

আফরিতা মাহজাবিন অমি

শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ

ঈদুল আজহার উপলব্ধি আসুক সবার মনে

শৈশবে কোরবানির পশু কেনা, তাদের যত্ন নেওয়া আর ঈদকে ঘিরে নানা প্রস্তুতির মাঝেই লুকিয়ে থাকত অন্যরকম আনন্দ। আবার সেই প্রিয় পশুটিকেই কোরবানি দেওয়ার মুহূর্তে মনজুড়ে ভর করত অদ্ভুত এক বিষণ্নতা। শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আজও ঈদের অনুভূতিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

ঈদের পুরো দিন কেটে যেত গোশ্ত কাটা, ভাগ করা আর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের মাঝে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যস্ততায়। ছোটোবেলায় এই ব্যস্ততাকে হয়ত অস্থিরতা মনে হতো, কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি হয়েছে এই ভাগাভাগির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। ঈদুল আজহা আমাদের শেখায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সজিব মিয়া

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ

ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহ

ঈদুল আজহা আমাদের জীবনে নিয়ে আসে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য বার্তা। এই ঈদের শিক্ষা কেবল পশু কুরবানিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।

কুরবানির মাংস যখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়, তখন ধনী–গরিবের বিভেদ ভুলে সমাজে গড়ে ওঠে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন। শিক্ষাজীবনে ঈদের এই অনুভূতি মনে করিয়ে দেয়, ভোগের প্রাচুর্যে নয়, বরং ভালোবাসা, ভাগাভাগি আর ত্যাগের মাঝেই লুকিয়ে আছে জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সার্থকতা

জান্নাতুল মাওয়া ছিমিন

শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ

কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য শিক্ষা

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার শিক্ষা বহন করে। কোরবানির মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও পশুত্বকে দমন করে মানবিকতা ও মমত্ববোধকে জাগ্রত করে।

ঈদুল আজহা এলেই স্মরণে আসে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ঘটনা। তাঁদের ত্যাগ আমাদের নিঃস্বার্থতা ও আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাংস ভাগাভাগির মাধ্যমে সমাজে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ে।

তবে বর্তমান সময়ে অনেকেই কোরবানির মূল শিক্ষা ভুলে পশুর দাম ও আকার নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। অথচ কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ত্যাগ, মানবতা ও সুষ্ঠু বণ্টনের মধ্যে। কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধি, ভালোবাসা ও মানবতার অনন্য মেলবন্ধন।

দুররি মাকতুম

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ

শিকড়ে ফেরার উৎসব: ঈদ

শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার, পরিবারে ফিরে যাওয়ার এবং আপনজনদের সান্নিধ্য খুঁজে পাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ। সারা বছর ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর ব্যস্ততার চাপে বন্দি জীবন থেকে ঈদ এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তির এক নির্মল পরশ।বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। হল কিংবা মেসের একঘেয়ে জীবন ছেড়ে পরিবারের কাছে ছুটে যাওয়া, মায়ের হাতের রান্না, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা আর একসঙ্গে সময় কাটানো—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই হয়ে ওঠে ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। নতুন পোশাকে ঈদের নামাজ, কোলাকুলি আর ভালোবাসার উষ্ণতায় ঈদ হয়ে ওঠে স্মৃতি আর অনুভূতির এক অনন্য উৎসব।

সামিহা তাসনিম

শিক্ষার্থী, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ


কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য শিক্ষা

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা প্রতি বছরই নিয়ে আসে ত্যাগ, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা। কুরবানির মাধ্যমে মানুষ কেবল পশু জবাই করে না; বরং নিজের ভেতরের পশুত্ব, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে দমন করার শিক্ষাও লাভ করে। এই উৎসবের অন্যতম সৌন্দর্য হলো ভাগাভাগির সংস্কৃতি। কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। তবে বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই কোরবানি পশুর আকার, দাম কিংবা সামাজিক প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো বিনয়, মানবিকতা ও সহমর্মিতা। তাই কোরবানি হয়ে উঠুক আত্মত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবতার এক জীবন্ত অনুশীলন।

সাদিয়া সুরভী

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ

ঈদের আনন্দে ফিরে পাওয়া আপনজন


বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত জীবন আর প্রতিদিনের ছুটে চলার ভিড়ে অনেক সময়ই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। আর ঠিক তখনই ঈদুল আজহা যেন নিয়ে আসে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। বাড়ি ফেরা, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়া এসব ছোট ছোট মুহূর্তই ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দেয়। তবে ঈদুল আজহা শুধু পারিবারিক মিলনের উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতারও শিক্ষা দেয়। কুরবানির মাংস ভাগাভাগির মাধ্যমে সমাজে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন। এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রকৃত আনন্দ কেবল নিজের প্রাপ্তিতে নয়, বরং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝেও লুকিয়ে থাকে। তাই ঈদ হোক আত্মশুদ্ধি, ভালোবাসা আর মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক সুন্দর উপলক্ষ।

হাবিব হাসনাত

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ

/এমআর/