শিরোনাম

বেরোবিতে ১৭ বছরেও হয়নি প্রথম সমাবর্তন, অপেক্ষায় গ্র্যাজুয়েটরা

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবিতে ১৭ বছরেও হয়নি প্রথম সমাবর্তন, অপেক্ষায় গ্র্যাজুয়েটরা
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রংপুরে প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের শেষের দিকে প্রথম সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় বহু প্রতীক্ষিত এ আয়োজন। ফলে প্রথম সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো সমাবর্তন আয়োজনটি গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় তারিখ পরিবর্তন করে চলতি বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবর্তন কমিটির সূত্র জানায়, প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিবন্ধন কার্যক্রম ২১ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলার কথা ছিল।

তবে ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন কমিটির এক সভায় অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবর্তনের নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ফি কমানোসহ বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিকেও অনুষ্ঠান স্থগিতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. বাইজীদ আহম্মেদ রনি বলেন, বেরোবির সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে সমাবর্তন অত্যন্ত আবেগের একটি বিষয়। বর্তমান প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি হতাশ। সমাবর্তনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করা উচিত।

বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এস এম শাহেদুল আলম সাগর বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সমাবর্তন আয়োজন করা হবে। কিন্তু আমরা এখনো সমাবর্তন পাইনি। এ বিষয়ে আমরা অ্যালামনাই সদস্যরা আবারও উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাবর্তনের জন্য মোট ১৬৭ জন আবেদন করেছিলেন। অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার পর অনেকে টাকা ফেরতের আবেদন করেন। পরে অনলাইন চার্জসহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, যারা পাস করে গেছেন, তারাই সমাবর্তন বন্ধের দাবি তুলেছেন। আমরা তো আয়োজন শুরু করেছিলাম, টাকা নিয়েছি, তারিখও নির্ধারণ করেছি। শিক্ষামন্ত্রীকে আনার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু পরে তারা আবেদন দিয়ে সমাবর্তন না করার কথা জানায়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকতে না পারলে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। পরে তারা স্মারকলিপি দিয়ে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আর সাবেক শিক্ষার্থীরা যখন চাইবে, তখনই সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করা হয়। তবে, প্রতিষ্ঠার দেড় দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

/এফআর/