পৃথিবীর তলদেশে লুকিয়ে আছে পানির বিশাল মজুত

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পৃথিবীর তলদেশে লুকিয়ে আছে পানির বিশাল মজুত
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীর প্রাণ ও বাসযোগ্যতা টিকিয়ে রাখতে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু ভূপৃষ্ঠেই নয়, গ্রহের অভ্যন্তরেও পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মাইল গভীরে ম্যানটেল ও তরল বহিঃস্থ কোরের কাছাকাছি এলাকায় বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষিত থাকতে পারে।

পৃথিবীর গভীরে থাকা এই পানি কীভাবে ম্যানটেল স্তরে পৌঁছেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

একদল গবেষকের ধারণা, পৃথিবী গঠনের সময় উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহটিতে পানি আসে। অন্যদিকে, আরেকটি মত হলো-পৃথিবীর গঠনের পর বিভিন্ন ভূ-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শুষ্ক ম্যানটেল ধীরে ধীরে পানিসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

গবেষণায় ম্যানটেলের একেবারে নিচের দিকে, কোরের সীমানার কাছাকাছি এলাকায় ‘আল্ট্রালো ভেলোসিটি জোন’ বা অত্যন্ত কম ভূকম্পন-গতির অঞ্চলের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব অঞ্চলের সঙ্গে পানিসমৃদ্ধ খনিজের সম্পর্ক থাকতে পারে। সাধারণ অবস্থায় ম্যানটেলের গভীর স্তরের খনিজগুলো শুষ্ক হলেও প্রচণ্ড তাপ ও চাপে সেগুলোর কাঠামোর মধ্যে পানি আটকে থাকতে পারে। এ সম্ভাবনা যাচাই করতে গবেষকেরা লেজার-হিটেড ডায়মন্ড অ্যানভিল সেলের সাহায্যে পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরের মতো অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ তৈরি করেন। পরীক্ষায় তারা দুটি নতুন ধরনের আয়রন অক্সিহাইড্রোক্সাইড খনিজ শনাক্ত করেন।

গবেষকদের মতে, এসব খনিজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি ধারণ করতে পারে এবং অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেনের উপস্থিতিতেও স্থিতিশীল থাকতে সক্ষম।

তবে পৃথিবীর গভীরে বিশাল কোনো তরল সমুদ্র জমে আছে-এমন ধারণা দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। বরং পানির অণু খনিজের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে সেখানে আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবীর প্রাথমিক পর্যায়ে এসব ভারী ও ঘন পানিবাহী খনিজ ম্যানটেলের গভীরে নেমে কোরের সীমানার দিকে পৌঁছে থাকতে পারে।

পরবর্তীতে ম্যানটেলের অভ্যন্তরীণ স্রোতের কারণে এসব খনিজ ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে পারে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ম্যানটেল প্লুমের মাধ্যমে সেই পানি শেষ পর্যন্ত ভূত্বকের কাছাকাছি ফিরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বায়রয়তের খনিজ পদার্থবিদ লিওনিড ডব্রোভিনস্কির মতে, সামান্য পরিমাণ হাইড্রোজেনও এসব পানিসমৃদ্ধ খনিজ গঠনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে নতুন শনাক্ত খনিজগুলোতে মোট কত পরিমাণ পানি আটকে থাকতে পারে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

/এসবি/