১৩ নভেম্বর কি ধ্বংস হবে পৃথিবী

১৩ নভেম্বর কি ধ্বংস হবে পৃথিবী
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটিকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবী ধ্বংসের গুঞ্জন। ১৯৬০ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার শিরোনামে এই তারিখের উল্লেখ থাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে গবেষণাটি কি সত্যিই পৃথিবীর শেষ কিংবা মানবজাতির বিলুপ্তির পূর্বাভাস দিয়েছিল? কী বলছে বিজ্ঞান?
পৃথিবীর শেষ দিন নিয়ে মানুষের কৌতূহল নতুন নয়। কখনো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কখনো সৌরঝড়, আবার কখনো প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা আতঙ্ক। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে আরব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির সূত্র খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে ৬ দশকেরও বেশি পুরোনো একটি গবেষণা।
১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছিলো গবেষণাটি। ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’ শিরোনামের ওই গবেষণার লেখক ছিলেন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই সহযোগী প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়ট। গবেষণার বিষয় ছিল পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এবং ভবিষ্যৎ।
গবেষকেরা খ্রিস্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪টি ঐতিহাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এমন একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন, যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃদ্ধির গতিও ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা যদি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলতে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জনসংখ্যার পরিমাণ গাণিতিকভাবে অসীমে পৌঁছানোর কথা। সমীকরণে পাওয়া ২০২৬ দশমিক ৮৭ সংখ্যাটিকে ক্যালেন্ডারের হিসাবে রূপান্তর করেই গবেষণার শিরোনামে উঠে আসে ১৩ নভেম্বরের তারিখ। কিন্তু এখানেই রয়েছে আসল রহস্য। গবেষকেরা কি সত্যিই বলেছিলেন, ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হবে? উত্তর হলো, না।
তাদের গবেষণায় গ্রহাণুর আঘাত, সূর্যের বিস্ফোরণ, ভূমিকম্প কিংবা কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানবজাতির বিলুপ্তির কথা বলা হয়নি। ‘ডুমসডে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি কাল্পনিক গাণিতিক পরিণতি বোঝাতে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সমীকরণকে অপরিবর্তিত অবস্থায় ভবিষ্যতে টেনে নিলে যে অসম্ভব ফল পাওয়া যায়, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বক্তব্য।
এদিকে, ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত মিশরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’র একটি পুরোনো কাটিংও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মিশেল তাকলারের নামে প্রকাশিত ওই নিবন্ধের শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির প্রসঙ্গ ছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিবন্ধটির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সৌর কার্যকলাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের নানা ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। তবে মূল গবেষণা ও সংবাদপত্রের নিবন্ধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
সৌরঝড় নিয়েও রয়েছে নানা জল্পনা। সূর্যের সক্রিয়তা নির্দিষ্ট চক্রে বাড়ে-কমে। শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর উপগ্রহ, যোগাযোগব্যবস্থা, নেভিগেশন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কিন্তু ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসকারী কোনো সৌরঝড় আঘাত হানবে-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদের মতে, সৌর কার্যকলাপ একটি পরিচিত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। ১৩ নভেম্বর এমন কোনো শনাক্ত করা মহাজাগতিক ঘটনা নেই, যা পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হুমকি তৈরি করবে। পৃথিবীর সমাপ্তি নিয়ে প্রচারিত দাবিগুলোরও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, বাস্তব জনসংখ্যার চিত্রও ১৯৬০ সালের সেই সমীকরণের সঙ্গে মেলে না। গত কয়েক দশকে জন্মহার কমেছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি। বর্তমানে তা ৮০০ কোটি ছাড়িয়েছে, কিন্তু অসীমের দিকে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি তা প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর কমে ২১০০ সালে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
১৩ নভেম্বর নিয়ে যতই রহস্য বা আতঙ্ক ছড়াক, ১৯৬০ সালের গবেষণাটি পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না। বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক মডেলের সীমাবদ্ধতা বোঝানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলোচনা ছিল সেটি। পৃথিবীর শেষের দিন হিসেবে ১৩ নভেম্বরকে চিহ্নিত করার পেছনে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটিকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবী ধ্বংসের গুঞ্জন। ১৯৬০ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার শিরোনামে এই তারিখের উল্লেখ থাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে গবেষণাটি কি সত্যিই পৃথিবীর শেষ কিংবা মানবজাতির বিলুপ্তির পূর্বাভাস দিয়েছিল? কী বলছে বিজ্ঞান?
পৃথিবীর শেষ দিন নিয়ে মানুষের কৌতূহল নতুন নয়। কখনো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কখনো সৌরঝড়, আবার কখনো প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা আতঙ্ক। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে আরব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির সূত্র খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে ৬ দশকেরও বেশি পুরোনো একটি গবেষণা।
১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছিলো গবেষণাটি। ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’ শিরোনামের ওই গবেষণার লেখক ছিলেন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই সহযোগী প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়ট। গবেষণার বিষয় ছিল পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এবং ভবিষ্যৎ।
গবেষকেরা খ্রিস্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪টি ঐতিহাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এমন একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন, যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃদ্ধির গতিও ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা যদি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলতে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জনসংখ্যার পরিমাণ গাণিতিকভাবে অসীমে পৌঁছানোর কথা। সমীকরণে পাওয়া ২০২৬ দশমিক ৮৭ সংখ্যাটিকে ক্যালেন্ডারের হিসাবে রূপান্তর করেই গবেষণার শিরোনামে উঠে আসে ১৩ নভেম্বরের তারিখ। কিন্তু এখানেই রয়েছে আসল রহস্য। গবেষকেরা কি সত্যিই বলেছিলেন, ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হবে? উত্তর হলো, না।
তাদের গবেষণায় গ্রহাণুর আঘাত, সূর্যের বিস্ফোরণ, ভূমিকম্প কিংবা কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানবজাতির বিলুপ্তির কথা বলা হয়নি। ‘ডুমসডে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি কাল্পনিক গাণিতিক পরিণতি বোঝাতে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সমীকরণকে অপরিবর্তিত অবস্থায় ভবিষ্যতে টেনে নিলে যে অসম্ভব ফল পাওয়া যায়, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বক্তব্য।
এদিকে, ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত মিশরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’র একটি পুরোনো কাটিংও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মিশেল তাকলারের নামে প্রকাশিত ওই নিবন্ধের শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির প্রসঙ্গ ছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিবন্ধটির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সৌর কার্যকলাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের নানা ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। তবে মূল গবেষণা ও সংবাদপত্রের নিবন্ধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
সৌরঝড় নিয়েও রয়েছে নানা জল্পনা। সূর্যের সক্রিয়তা নির্দিষ্ট চক্রে বাড়ে-কমে। শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর উপগ্রহ, যোগাযোগব্যবস্থা, নেভিগেশন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কিন্তু ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসকারী কোনো সৌরঝড় আঘাত হানবে-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদের মতে, সৌর কার্যকলাপ একটি পরিচিত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। ১৩ নভেম্বর এমন কোনো শনাক্ত করা মহাজাগতিক ঘটনা নেই, যা পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হুমকি তৈরি করবে। পৃথিবীর সমাপ্তি নিয়ে প্রচারিত দাবিগুলোরও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, বাস্তব জনসংখ্যার চিত্রও ১৯৬০ সালের সেই সমীকরণের সঙ্গে মেলে না। গত কয়েক দশকে জন্মহার কমেছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি। বর্তমানে তা ৮০০ কোটি ছাড়িয়েছে, কিন্তু অসীমের দিকে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি তা প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর কমে ২১০০ সালে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
১৩ নভেম্বর নিয়ে যতই রহস্য বা আতঙ্ক ছড়াক, ১৯৬০ সালের গবেষণাটি পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না। বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক মডেলের সীমাবদ্ধতা বোঝানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলোচনা ছিল সেটি। পৃথিবীর শেষের দিন হিসেবে ১৩ নভেম্বরকে চিহ্নিত করার পেছনে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৩ নভেম্বর কি ধ্বংস হবে পৃথিবী
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটিকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবী ধ্বংসের গুঞ্জন। ১৯৬০ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার শিরোনামে এই তারিখের উল্লেখ থাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে গবেষণাটি কি সত্যিই পৃথিবীর শেষ কিংবা মানবজাতির বিলুপ্তির পূর্বাভাস দিয়েছিল? কী বলছে বিজ্ঞান?
পৃথিবীর শেষ দিন নিয়ে মানুষের কৌতূহল নতুন নয়। কখনো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কখনো সৌরঝড়, আবার কখনো প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা আতঙ্ক। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে আরব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির সূত্র খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে ৬ দশকেরও বেশি পুরোনো একটি গবেষণা।
১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছিলো গবেষণাটি। ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩’ শিরোনামের ওই গবেষণার লেখক ছিলেন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই সহযোগী প্যাট্রিশিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিয়ট। গবেষণার বিষয় ছিল পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এবং ভবিষ্যৎ।
গবেষকেরা খ্রিস্টীয় যুগের শুরু থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪টি ঐতিহাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এমন একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন, যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃদ্ধির গতিও ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘হাইপারবলিক গ্রোথ’।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা যদি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলতে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জনসংখ্যার পরিমাণ গাণিতিকভাবে অসীমে পৌঁছানোর কথা। সমীকরণে পাওয়া ২০২৬ দশমিক ৮৭ সংখ্যাটিকে ক্যালেন্ডারের হিসাবে রূপান্তর করেই গবেষণার শিরোনামে উঠে আসে ১৩ নভেম্বরের তারিখ। কিন্তু এখানেই রয়েছে আসল রহস্য। গবেষকেরা কি সত্যিই বলেছিলেন, ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হবে? উত্তর হলো, না।
তাদের গবেষণায় গ্রহাণুর আঘাত, সূর্যের বিস্ফোরণ, ভূমিকম্প কিংবা কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানবজাতির বিলুপ্তির কথা বলা হয়নি। ‘ডুমসডে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি কাল্পনিক গাণিতিক পরিণতি বোঝাতে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সমীকরণকে অপরিবর্তিত অবস্থায় ভবিষ্যতে টেনে নিলে যে অসম্ভব ফল পাওয়া যায়, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বক্তব্য।
এদিকে, ১৯৬৪ সালের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত মিশরীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াতানি’র একটি পুরোনো কাটিংও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মিশেল তাকলারের নামে প্রকাশিত ওই নিবন্ধের শিরোনামেও ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর সমাপ্তির প্রসঙ্গ ছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিবন্ধটির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সৌর কার্যকলাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের নানা ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। তবে মূল গবেষণা ও সংবাদপত্রের নিবন্ধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
সৌরঝড় নিয়েও রয়েছে নানা জল্পনা। সূর্যের সক্রিয়তা নির্দিষ্ট চক্রে বাড়ে-কমে। শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর উপগ্রহ, যোগাযোগব্যবস্থা, নেভিগেশন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কিন্তু ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসকারী কোনো সৌরঝড় আঘাত হানবে-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমাদ মুজাহেদের মতে, সৌর কার্যকলাপ একটি পরিচিত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। ১৩ নভেম্বর এমন কোনো শনাক্ত করা মহাজাগতিক ঘটনা নেই, যা পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হুমকি তৈরি করবে। পৃথিবীর সমাপ্তি নিয়ে প্রচারিত দাবিগুলোরও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, বাস্তব জনসংখ্যার চিত্রও ১৯৬০ সালের সেই সমীকরণের সঙ্গে মেলে না। গত কয়েক দশকে জন্মহার কমেছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি। বর্তমানে তা ৮০০ কোটি ছাড়িয়েছে, কিন্তু অসীমের দিকে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮২০ কোটি। ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি তা প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এরপর কমে ২১০০ সালে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
১৩ নভেম্বর নিয়ে যতই রহস্য বা আতঙ্ক ছড়াক, ১৯৬০ সালের গবেষণাটি পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না। বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক মডেলের সীমাবদ্ধতা বোঝানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলোচনা ছিল সেটি। পৃথিবীর শেষের দিন হিসেবে ১৩ নভেম্বরকে চিহ্নিত করার পেছনে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পৃথিবীর তলদেশে লুকিয়ে আছে পানির বিশাল মজুত







