শিরোনাম

‘সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে মূল্য দিতেই হয়’

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
‘সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে মূল্য দিতেই হয়’
কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নিয়েছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি কলম্বিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ার পর, পেনাল্টি শুটআউটে কলম্বিয়ানদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। পুরো ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণী শটে সুইজারল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হতে হয় তাদের।

ম্যাচ শেষে গভীর হতাশা প্রকাশ করে কলম্বিয়ার প্রধান কোচ নেস্তর লরেঞ্জো দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের খেলাতেই তার দল স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ের যোগ্য দাবিদার ছিল। কৌশলগতভাবে ম্যাচটি কঠিন ও সমতাপূর্ণ হবে তা আগে থেকেই জানা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ মাস্টারমাইন্ড জানান, ম্যাচে তাদের কেবল গোলের অভাব ছিল। পুরো ৯০ মিনিটে আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে কলম্বিয়াই শ্রেয়তর দল ছিল এবং তাদের প্রাপ্তি আরও বেশি হতে পারত। ম্যাচের পরিসংখ্যানও কোচের কথার পক্ষে কথা বলছে। কলম্বিয়া পুরো ম্যাচে মোট ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে কাম্পাস বক্সের ভেতর দারুণ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন, যা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য বড় মাশুল হয়ে দাঁড়ায়।

তবে দলের এমন হারেও ফুটবলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নারাজ কলম্বিয়ান কোচ। শিষ্যদের পাশে দাঁড়িয়ে লরেঞ্জো বলেন, সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার খেসারত দিতে হলেও এই খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার কিছু নেই। উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, কিছুদিন আগেই বাছাইপর্বে বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে এই দলই দুই ম্যাচে ৯টি গোল করেছিল। তাছাড়া স্কোয়াডের এই ফুটবলাররাই নিয়মিত নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন এবং লিগের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। কোচের মতে, ফুটবলে কখনও বল জালে জড়ায়, আবার কখনও শত চেষ্টা করেও জড়ানো যায় না।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও ২০২৬ আসরে কলম্বিয়ার যাত্রা ছিল ঈর্ষণীয়। গ্রুপ 'কে'-তে দুই জয় ও এক ড্র নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করার পর, নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল তারা। ২০২২ সালে লরেঞ্জো যখন কলম্বিয়ার দায়িত্ব নেন, দলটি তখন কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি। সেখান থেকে দলকে পুনর্গঠন করে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় রানার্স-আপ করা এবং এবার পুরো বিশ্বকাপে অপরাজিত রেখে বিদায় নেওয়া লরেঞ্জোর অধীনে কলম্বিয়ার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ফুটবলে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

/এমএকে/