‘আইপিএলে ৫ ম্যাচ ফিক্সিং করে ৩ কোটি রুপি পেয়েছি’

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
‘আইপিএলে ৫ ম্যাচ ফিক্সিং করে ৩ কোটি রুপি পেয়েছি’
আইপিএল ট্রফি

আইপিএলের মঞ্চে আবারও পড়েছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া। ঘরোয়া ক্রিকেটের এক খেলোয়াড়ের করা চাঞ্চল্যকর দাবিতে এখন তোলপাড় ভারতীয় ক্রিকেট। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছেন নাগাল্যান্ডের রঞ্জি খেলা ক্রিকেটার রাচিত ভাটিয়া।

এক সাংবাদিকের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন ঘরোয়া ও আইপিএলের ভেতরের অনেক গোপন তথ্য। অতীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে দুই বছর নিষিদ্ধ থাকা সিএসকে দল নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। জরুরি বৈঠক ডেকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেন্নাইয়ের কর্তারা।

জানা গেছে, রাচিত ভাটিয়ার ওপর স্টিং অপারেশন চালান এক সাংবাদিক, যিনি নিজেকে জুয়াড়ি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সেই গোপন কথোপকথনে রাচিত জানান, টস হওয়ার অনেক আগেই তার কাছে চলে আসত চেন্নাই সুপার কিংসের প্রথম একাদশের তালিকা। আর সেই অত্যন্ত গোপন টিমলিস্ট স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনে থাকা জুয়াড়িদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন তিনি। রাচিতের দাবি, ২০২৫ আইপিএলের পাঁচটি ম্যাচের টিমলিস্ট এভাবেই বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিটি টিম লিস্টের জন্য ৬০ লাখ টাকা করে দর হাঁকতেন তিনি। অতীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা বলতে গিয়ে রাচিত বলেন, ‘২০১৮-১৯ মৌসুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও ম্যাচ গড়াপেটা করেছি। ইচ্ছাকৃত দুটো ওয়াইড বল করেছিলাম। প্রতিটি বলের জন্য জুয়াড়িদের কাছ থেকে ৮ লাখ করে পাই। দুটো বলের জন্য ১৬ লাখ পেয়েছিলাম।’

চলতি ২০২৬ আইপিএলে ম্যাচপিছু ১ কোটি টাকা করে দর হাঁকলেও সিএসকে স্কোয়াডে তার সেই চর খেলার সুযোগ পাননি। সে কারণে আইপিএলে আর গড়াপেটা চালাতে পারেননি রাচিত। তবে তার সেই চর ক্রিকেটারটি দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন এবং সেখানেই দেদার ফিক্সিং চলেছে বলে দাবি। স্রেফ টিমলিস্টই নয়, ম্যাচের নানা পরিস্থিতি যেমন রানআউট কিংবা মন্থর ব্যাটিং ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তার কথামতোই হয়েছে বলে জানান ওই ক্রিকেটার।

এদিকে চেন্নাই শিবিরে লুকিয়ে থাকা এ চর আসলে কে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বংশ বেদী নামের এক তরুণ ক্রিকেটার দলের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চোটের কারণে ২০২৬ আইপিএল মিস করলেও দিল্লির লিগে খেলেছেন এ তরুণ। এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে দিল্লির ক্রিকেট সংস্থাও। তারা বিসিসিআইয়ের সাহায্য চেয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব দাবির কোনো সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি।

অন্যদিকে, পুরো ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না চেন্নাই সুপার কিংস। ‘ক্রিকবাজ’ ওয়েবসাইটে চেন্নাইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের বার্ষিক সাধারণ সভা কিছু দিন পরেই। তার আগে কর্মকর্তারা একত্রিত হবেন। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এইবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই দলের কর্তারা বসে এ বিতর্কিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন বলেই জানা গেছে।

/এমএকে/