শিরোনাম

স্বস্তির ঈদযাত্রা দক্ষিণাঞ্চলে, ভোগান্তি উত্তরাঞ্চলে

সিটিজেন ডেস্ক
স্বস্তির ঈদযাত্রা দক্ষিণাঞ্চলে, ভোগান্তি উত্তরাঞ্চলে
বৃষ্টি আর যানজটে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ছবি: ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুদিন বাকি। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকার প্রবেশমুখ ও বিভিন্ন মহাসড়কগুলোতে। তবে ঘরমুখী মানুষের আনন্দযাত্রায় বাদ সেধেছে তীব্র যানজট ও তুমুল বৃষ্টি। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী তিন জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে মহাসড়কগুলোতে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ যাত্রী।

ঢাকা থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাওয়ার প্রধান তিন জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও অঞ্চলভেদে সড়ক পরিস্থিতির ভিন্নতা দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বড় কোনো যানজট নেই। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেশ কিছু পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ঘরমুখী মানুষের অতিরিক্ত চাপ এবং টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ির নূরবাগ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন। অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না, যার ফলে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বাসসংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। এছাড়া কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কেও চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টি ও খানাখন্দের কারণে গাড়ির গতি কমে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চাপ বাড়লেও দুপুরের আগ পর্যন্ত বড় কোনো যানজট ছিল না। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল, তারাব ও বরপা এলাকার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে অপেক্ষমাণ হাজারো যাত্রী চরম বিপাকে পড়েন। রাজধানী থেকে গাড়ি ছাড়তে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস না পৌঁছানো এবং ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিস্তর অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরে বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় এবং চালকদের প্রতিযোগিতার কারণে তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

নৌপথেও দুর্ভোগের চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বেলা সোয়া ১১টা থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় অর্ধশতাধিক দূরপাল্লার বাসসহ অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে। এর আগে সকালে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো পারাপার হলেও ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর যাত্রীরা ঘাটে নেমে চরম দুর্ভোগে পড়েন। উপরন্তু, ঘাট থেকে লোকাল পরিবহন ও ইজিবাইকগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই দুর্ভোগের মধ্যেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় অন্য সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ কিছুটা বেশি থাকলেও কোনো যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে গাড়ি পারাপার হচ্ছে। অবশ্য এক্সপ্রেসওয়ের নিমতলা ও ছনবাড়িতে দুটি ছোট সড়ক দুর্ঘটনার কারণে সকালে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। মহাসড়ক ও ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কাজ করছে।

/এমএকে/