সৌদির জেলে বন্দি আছেন সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদির জেলে বন্দি আছেন সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে কম-বেশি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এই সংখ্যাটা তারা আমাদের পাঠায়। বিভিন্ন সাজায় তারা জেলে থাকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জনের নাম সেই তালিকায় আছে কি না আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা এখনও বিস্তারিত পাইনি। সৌদি সরকারের কাছে রায়ের কপি চেয়েছি। সেটা পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদির রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি নিহত শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান।

সৌদিতে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, যখনই যুদ্ধের কারণে অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনার খবর পাই, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কথা ভেবে আমরা দুশ্চিন্তা করি। এ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং বাংলাদেশিসহ কোনো দেশের নাগরিক বা কোনো মানুষই যেন এমন হামলার শিকার না হন।

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি হিসেবে আছেন বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সম্প্রতি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় তারা আমাদের বন্দিদের বা দণ্ডিতদের তালিকা পাঠায়। সেখানে এই দুজনের নাম আছে কি না, আমরা খতিয়ে দেখছি। তাদের ব্যাপারে আর বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। রায়ের কপি দেওয়ার জন্য আমরা সৌদি সরকারকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছি। কপি পেলেই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব যে কী ঘটেছিল সেখানে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ এবং আইনগত ব্যাপারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এতে যুক্ত আছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো দেশে থাকা মিশন বা মন্ত্রণালয় যখন জানতে পারে কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হয়েছে, তখন আমরা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে যোগাযোগ করি। সেদেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে দণ্ড মওকুফ করা যায় কি না, সে চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, আমরা অন্য দেশের জুডিশিয়াল সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করি না। কিন্তু আমার দেশের নাগরিককে বাঁচানোর জন্য যতটুক দরকার সেটা করতে পারি। এই দুজনের ব্যাপারে যে সমস্যা হয়েছে সেটা হলো, আমরা জানতাম না।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকিদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

/জেএইচ/