বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার সতর্কতা, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার সতর্কতা, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশও
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রযুক্তি পিএইচপিতে গুরুতর দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশেও এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকিংয়ের উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দল। ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম শনাক্ত করে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এসব ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়। একটি ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ত্রুটিগুলোর তথ্য প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে।
বিশ্বে যেসব ওয়েবসাইটের ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, সেগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশেই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। জনপ্রিয় কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা প্লাটফর্ম ওয়ার্ডপ্রেসও পিএইচপি-নির্ভর। ফলে পিএইচপিতে গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠান বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একই দুর্বলতা ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট একসঙ্গে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পিএইচপির দুর্বল ও পুরনো সংস্করণে চলা এবং সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহারযোগ্য ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ই-কমার্স, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সাইট রয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বহু অনলাইন সেবাও এ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
পিএইচপির যে দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো মূলত ওয়েবসাইটে আসা অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ ও সার্ভারের মেমোরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্দিষ্টভাবে তৈরি করা অনুরোধ পাঠিয়ে হ্যাকাররা এসব ত্রুটির সুযোগ নিতে পারে। এতে কোনো পাসওয়ার্ড বা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই আক্রান্ত সার্ভারে নিজেদের কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একবার এ সুযোগ পেলে তারা সার্ভারে রক্ষিত তথ্য দেখা বা পরিবর্তন, গোপন পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি কিংবা ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা অচল করার চেষ্টা করতে পারে।
ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বুধবার থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। জার্মানির কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা সংস্থা কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। নেদারল্যান্ডসে রটারডাম বন্দর, সরকারি ওয়েবসাইট, রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ফিনল্যান্ড সরকারও সরকারি ওয়েবসেবা বন্ধ রেখে নিরাপত্তা হালনাগাদের কাজ শুরু করে।
এশিয়াতেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া সংস্থা কিছু অনলাইন সেবা সীমিত করেছে। দেশটির কর বিভাগ সাময়িকভাবে অনলাইন সেবা বন্ধ করে। বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা ও রেল কোম্পানিও কিছু সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সংস্থাটি সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের ব্যবহৃত পিএইচপি সিস্টেম দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহার করা যায় এমন সিস্টেমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং মূল সার্ভারে সরাসরি সংযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছে সার্ট। পাশাপাশি সার্ভারের লগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখা যাচ্ছে, ‘নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সার্ভিসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই তা আবার সচল করা হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রথমত, সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন কোন অনলাইন সেবা এবং ওয়েবসাইট এ ত্রুটির ঝুঁকিতে রয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, কেবল নিরাপত্তা হালনাগাদেই থেমে না থেকে এরই মধ্যে কোথাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা হামলা হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা।

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রযুক্তি পিএইচপিতে গুরুতর দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশেও এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকিংয়ের উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দল। ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম শনাক্ত করে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এসব ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়। একটি ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ত্রুটিগুলোর তথ্য প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে।
বিশ্বে যেসব ওয়েবসাইটের ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, সেগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশেই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। জনপ্রিয় কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা প্লাটফর্ম ওয়ার্ডপ্রেসও পিএইচপি-নির্ভর। ফলে পিএইচপিতে গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠান বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একই দুর্বলতা ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট একসঙ্গে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পিএইচপির দুর্বল ও পুরনো সংস্করণে চলা এবং সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহারযোগ্য ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ই-কমার্স, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সাইট রয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বহু অনলাইন সেবাও এ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
পিএইচপির যে দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো মূলত ওয়েবসাইটে আসা অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ ও সার্ভারের মেমোরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্দিষ্টভাবে তৈরি করা অনুরোধ পাঠিয়ে হ্যাকাররা এসব ত্রুটির সুযোগ নিতে পারে। এতে কোনো পাসওয়ার্ড বা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই আক্রান্ত সার্ভারে নিজেদের কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একবার এ সুযোগ পেলে তারা সার্ভারে রক্ষিত তথ্য দেখা বা পরিবর্তন, গোপন পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি কিংবা ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা অচল করার চেষ্টা করতে পারে।
ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বুধবার থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। জার্মানির কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা সংস্থা কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। নেদারল্যান্ডসে রটারডাম বন্দর, সরকারি ওয়েবসাইট, রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ফিনল্যান্ড সরকারও সরকারি ওয়েবসেবা বন্ধ রেখে নিরাপত্তা হালনাগাদের কাজ শুরু করে।
এশিয়াতেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া সংস্থা কিছু অনলাইন সেবা সীমিত করেছে। দেশটির কর বিভাগ সাময়িকভাবে অনলাইন সেবা বন্ধ করে। বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা ও রেল কোম্পানিও কিছু সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সংস্থাটি সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের ব্যবহৃত পিএইচপি সিস্টেম দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহার করা যায় এমন সিস্টেমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং মূল সার্ভারে সরাসরি সংযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছে সার্ট। পাশাপাশি সার্ভারের লগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখা যাচ্ছে, ‘নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সার্ভিসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই তা আবার সচল করা হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রথমত, সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন কোন অনলাইন সেবা এবং ওয়েবসাইট এ ত্রুটির ঝুঁকিতে রয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, কেবল নিরাপত্তা হালনাগাদেই থেমে না থেকে এরই মধ্যে কোথাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা হামলা হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা।

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার সতর্কতা, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশও
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রযুক্তি পিএইচপিতে গুরুতর দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশেও এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকিংয়ের উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দল। ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম শনাক্ত করে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এসব ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়। একটি ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ত্রুটিগুলোর তথ্য প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে।
বিশ্বে যেসব ওয়েবসাইটের ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, সেগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশেই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। জনপ্রিয় কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা প্লাটফর্ম ওয়ার্ডপ্রেসও পিএইচপি-নির্ভর। ফলে পিএইচপিতে গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠান বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একই দুর্বলতা ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট একসঙ্গে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পিএইচপির দুর্বল ও পুরনো সংস্করণে চলা এবং সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহারযোগ্য ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ই-কমার্স, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সাইট রয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বহু অনলাইন সেবাও এ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
পিএইচপির যে দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো মূলত ওয়েবসাইটে আসা অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ ও সার্ভারের মেমোরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্দিষ্টভাবে তৈরি করা অনুরোধ পাঠিয়ে হ্যাকাররা এসব ত্রুটির সুযোগ নিতে পারে। এতে কোনো পাসওয়ার্ড বা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই আক্রান্ত সার্ভারে নিজেদের কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একবার এ সুযোগ পেলে তারা সার্ভারে রক্ষিত তথ্য দেখা বা পরিবর্তন, গোপন পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি কিংবা ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা অচল করার চেষ্টা করতে পারে।
ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বুধবার থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। জার্মানির কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা সংস্থা কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। নেদারল্যান্ডসে রটারডাম বন্দর, সরকারি ওয়েবসাইট, রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ফিনল্যান্ড সরকারও সরকারি ওয়েবসেবা বন্ধ রেখে নিরাপত্তা হালনাগাদের কাজ শুরু করে।
এশিয়াতেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া সংস্থা কিছু অনলাইন সেবা সীমিত করেছে। দেশটির কর বিভাগ সাময়িকভাবে অনলাইন সেবা বন্ধ করে। বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা ও রেল কোম্পানিও কিছু সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সংস্থাটি সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের ব্যবহৃত পিএইচপি সিস্টেম দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ইন্টারনেট থেকে ব্যবহার করা যায় এমন সিস্টেমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং মূল সার্ভারে সরাসরি সংযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছে সার্ট। পাশাপাশি সার্ভারের লগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখা যাচ্ছে, ‘নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সার্ভিসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই তা আবার সচল করা হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রথমত, সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন কোন অনলাইন সেবা এবং ওয়েবসাইট এ ত্রুটির ঝুঁকিতে রয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, কেবল নিরাপত্তা হালনাগাদেই থেমে না থেকে এরই মধ্যে কোথাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা হামলা হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা।

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী







