শিরোনাম

ভোগান্তি ছাপিয়ে সারাদেশে ঈদের আমেজ

ভোগান্তি ছাপিয়ে সারাদেশে ঈদের আমেজ
গ্রাফিক্স: সিটিজেন জার্নাল

ঈদ মানে অনাবিল আনন্দ, ঈদ মানে খুশির বন্যা। আগামীকাল শনিবার সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস আত্মশুদ্ধি আর ইবাদত-বন্দেগির পর এখন শুধু উৎসবের রঙে মেতে ওঠার অপেক্ষা।

সীমাহীন কষ্ট আর ভোগান্তি উপেক্ষা করে যারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সবার ঈদ কাটুক শান্তিতে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি মানুষের জীবন।

নাড়ির টানে ঘরে ফেরা

প্রতিবারের মতো এবারও নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কড়া রোদ, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি আর দীর্ঘ যানজট মাথায় নিয়ে ঘরমুখো মানুষের এই যাত্রায় ছিল যেন এক কঠিন পরীক্ষা।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষ সড়কপথ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহান। বাসে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত মানুষকে ট্রেনের ছাদে বা ট্রাকে করেই প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপনের জন্য বাড়ি ফিরেছে। এই যাত্রাপথে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হতাহতের কিছু ঘটনা উৎসবের আমেজে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলেও জনভোগান্তি কমাতে পরে তা শিথিল করা হয়। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও অনেক পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে। তবে যাত্রাপথে যতই ভোগান্তি হোক স্বজনদের কাছে যাওয়ার পর সব ক্লান্তি যেন নিমিষেই যেনো দূর হয়ে যায়।

কেনাকাটা ও ইফতারের আমেজ

পুরো রমজান মাসে রাজধানী ছিল উৎসবমুখর। পুরান ঢাকার চকবাজারের ঐতিহাসিক ইফতারির বাজার কিংবা বেইলি রোডের বাহারি খাবারের পসরা—সবখানেই ছিল ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড়।

পুরো রমজান মাসে রাজধানী ছিল উৎসবমুখর। পুরান ঢাকার চকবাজারের ঐতিহাসিক ইফতারির বাজার কিংবা বেইলি রোডের বাহারি খাবারের পসরা—সবখানেই ছিল ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড়।

ঈদের কেনাকাটায়ও পিছিয়ে ছিল না কেউ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সসহ‍‍‌ ছোট-বড় সব বিপণীবিতানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবার শপিংমলগুলোতে আলোকসজ্জা না থাকলেও ক্রেতাদের উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি ছিল না। সাধ্য অনুযায়ী নতুন পোশাক কিনেছেন সবাই; যাদের সামর্থ্য কম, তাদের শেষ ভরসা ছিল ফুটপাতের দোকানগুলো।

ঈদের নামাজ ও প্রস্তুতি

রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এই জামাতে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। এরই মধ্যে প্যান্ডেল ও নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ছোটদের ঈদ ও নতুন টাকার সংকট

ঈদের আনন্দ শিশুদের কাছে অপূর্ণ থেকে যায় নতুন টাকার সালামি ছাড়া। তবে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন নোট পর্যাপ্ত পরিমাণে ছাড়া না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা না পেয়ে ফুটপাত থেকে বাড়তি দামে নতুন নোট সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবুও সেমাই, নুডুলস আর নতুন টাকার গন্ধে শিশুদের মধ্যে বিরাজ করছে অন্যরকম উৎসবের আমেজ।

যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান পড়ে। এজন্য সরকার বিভিন্ন যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহের জন্য রেশনিং করেছিল। এতে ভোগান্তি বাড়ায় সেখান থেকে সরে আসে সরকার। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য রাজধানীর বিভিন্ন বাস ও রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হয়েছে। যাতে যানবাহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া কেউ আদায় করতে না পারে। এসব প্রস্ততির পরও অনেক যানবাহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার খবর পাওয়া যায়।

রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে পৃথক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশ ও জাতির সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের দিন সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

/বিবি/