শিরোনাম

নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়ে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারায় দিনটি তার ব্যক্তিগতভাবে যেমন আবেগের, তেমনি সরকার ও বিএনপির জন্যও একটি ঐতিহাসিক দিন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন চেপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন। তাদের মধ্যে একজন রাশেদা। উদ্বোধনের পর তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে ভাতার টাকা পৌঁছেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে রাজনীতি বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এখন আর স্বপ্ন নয়; এটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এটি মানুষের ভরসা ও আস্থার প্রতীক।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে এ টাকা দেওয়া হবে, ফলে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়া যাবে।

সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান বা পেনশন পেলে, অথবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলে সেই পরিবার এ ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।

কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) থাকলে, কিংবা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও সেই পরিবার ভাতার আওতায় আসবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

/এসএ/