শিরোনাম

জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার

জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার। যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতারা।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ অভয় দিয়ে বলেছেন, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জ্বালানি সংকট না থাকার এই কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ব্যাংক বন্ধ থাকায় দেশের ৯০ শতাংশ পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ সংকটের খবর পাওয়া গেছে।

রবিবার (২২ মার্চ) চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর নতুন করে বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এই চাপ আরও বাড়বে।’ তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকা–সিলেট রুটে তার একটি তেলের পাম্প রয়েছে। পাম্পে তেল না থাকায় মোটরসাইকেলচালক ও মালিকেরা কর্মচারীকে মারধর করতে উদ্যত হয়। মোটরসাইকেল কিশোররা চালায়। তাদের মধ্যে একজন পাম্প কর্মচারীকে বলে, ‘তুই আমারে চিনস, পাম্প এখনই বন্ধ করে দিবো।’

এই পরিস্থিতিতে মোকাবিলায় সমন্বয় করে জ্বালানি তেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন করণীয় হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তেলের ডিপোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও হাজার হাজার লোকজনকে মোকাবিলা করার জন্য পাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। এতে পাম্পগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ে আজ এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সামনে তেলের দাম এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা আমাদের মেনে নিয়েই এগোতে হবে। যুদ্ধ আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বেসরকারি এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই এবং গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

পাম্প মালিক সমিতির একাংশ যা বলছে

Untitled design - 2026-03-23T204946.653
রমনা প্রেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। ছবি:সিটিজেন জার্নাল

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি অংশ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়ায় গ্রাহকদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সরবরাহ সংকট ও নিরাপত্তার অভাবে যেকোনো মুহূর্তে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সংগঠনের অন্য অংশের সভাপতি শেখ নাজমুল হক জানিয়েছেন, মূলত গত পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় ডিপো থেকে তেল তোলার জন্য ‘পে-অর্ডার’ করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পাম্পে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ব্যাংক খুললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা কিছু প্রেট্রোল পাম্প বন্ধ এবং বেশির ভাগ পাম্প বন্ধ পাওয়া গেছে। আবার যেগুলো খোলা আছে সেগুলোর কোনো কোনোটিতে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে তো অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।

নীলক্ষেতের চিত্র

‘পথের বন্ধু’ পাম্পে কেবল ডিজেল মিলছে, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ। পাশের 'মেসার্স কিউ জি সামদানি' পাম্পটি পুরোপুরি বন্ধ পাওয়া গেছে।

মতিঝিলের চিত্র

‘মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশনে’ পেট্রোল ও ডিজেল থাকলেও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে অনেকে অকটেনের পরিবর্তে পেট্রল নিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য ভবন এলাকার চিত্র

এই এলাকার রমনা পেট্রোল পাম্পটিতে ভিড় থাকলেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে। একদিকে যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং জটিলতা—সব মিলিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার পর সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে তারা।

/বিবি/