বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটে দায়সারা পাঠদান, নাজুক মাধ্যমিক শিক্ষা

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটে দায়সারা পাঠদান, নাজুক মাধ্যমিক শিক্ষা
পুরান ঢাকার পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি শেণিকক্ষের জানালার পাল্লা খুলে পড়েছে। ছবি: সিটিাহেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর পুরান ঢাকার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়। এখানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী আছে। দুই পালায় (শিফটে) চলে পাঠদান। কিন্তু এখানে শিক্ষকের ৫৬টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৩৬ জন। শিক্ষক স্বল্পতার পাশাপাশি এখানে শ্রেনিকক্ষ সংকট প্রকট। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবনের একাংশ পরিত্যক্ত। খুলে পড়ছে জানালা। বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে ।

একই হতাশাব্যঞ্জক চিত্র পুরান ঢাকার পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন মাত্র ৪৪ জন শিক্ষক। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক অনেক কম। অন্য বিভাগের শিক্ষকদের বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার সামগ্রিক চিত্রেও এমন দুরবস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। কোথাও পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নেই, কোথাও বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের ঘাটতি, আবার কোথাও কম্পিউটার ও বিজ্ঞানাগার থাকলেও যোগ্য শিক্ষক না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা একেবারেই বন্ধ। এতে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এছাড়া সৃজনশীল পদ্ধতির বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব; বারবার সিলেবাস পরিবর্তন; ইংরেজি ও গণিতের পাঠদানে দুর্বলতাসহ নানা কারণে শিক্ষার ভিত্তি গড়ার অন্যতম স্তর মাধ্যমিক পর্যায় অনেক নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষায় ব্যবহারিক শিক্ষার চিত্রটা যেন খাতার পাতাতেই সীমাবদ্ধ। বিজ্ঞানাগার থাকলেও দক্ষ জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেখানে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে না অনেক শিক্ষার্থী।

শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার এই করুণ পরিস্থিতির বিরাজ করার অন্যতম একটি কারণ শিক্ষক সংকট। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও উঠে এসেছে। মাউশির ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের ১৬ হাজার ১৪১টি পদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৮টি শূন্য। অর্থাৎ শিক্ষকের প্রতি ১০০টি পদের মধ্যে প্রায় ৩৮টি শূন্য। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ৫৭২টি পদের মধ্যে ৩৭৯টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭০২টি পদের মধ্যে ৫২৭টি শূন্য রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৭ হাজার ২২৭টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় কোথাও অন্য বিষয়ের শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) শেষ করার চাপ বাড়লেও শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু বুঝিয়ে শেখানো, বাড়ির কাজ মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার সুযোগ কমছে। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো ধারাবাহিক অনুশীলননির্ভর বিষয়ে এর প্রভাব পড়ছে।

সব মিলিয়ে ২০ হাজার ৬৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৯০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন হচ্ছে না নতুন নিয়োগ

মাউশি সূত্রে জানা যায়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতিবছরের শিক্ষক সংকটের তথ্য মাউশি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফাইলবন্দি হয়ে থাকায় তা আর আলোর মুখ দেখে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই দীর্ঘ সময় অপচয় হয়। মাউশির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। মাউশি সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে না। প্রতিবছর শূন্য পদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ছাড়াই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি

শিক্ষকসংকট শুধু গড় সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রয়েছে ঘাটতি। মাউশির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাংলায় ১ হাজার ৬৮৯টি পদের মধ্যে ৪৫২টি, ইংরেজিতে ১ হাজার ৭০৭টির মধ্যে ২৩৭টি এবং গণিতে ১ হাজার ৩১৭টির মধ্যে ২১২টি পদ শূন্য। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর মধ্যে জীববিজ্ঞানে ৮৫৪টি পদের মধ্যে ২৫২টি ও ভৌত বিজ্ঞানে ৮৮১টি পদের মধ্যে ২১০টি পদ শূন্য রয়েছে। ধর্ম বিষয়ে ৯১১টি পদের মধ্যে ২৫৬টি পদ শূন্য, যা মোট পদের ২৮ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞানের অধীন বিভিন্ন বিষয়ের ১ হাজার ২০টি পদের মধ্যে ৩১৯টি শূন্য, যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৮৬টি পদের মধ্যে ২৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা যায়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতিবছরের শিক্ষক সংকটের তথ্য মাউশি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফাইলবন্দি হয়ে থাকায় তা আর আলোর মুখ দেখে না।

বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় কোথাও অন্য বিষয়ের শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) শেষ করার চাপ বাড়লেও শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু বুঝিয়ে শেখানো, বাড়ির কাজ মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার সুযোগ কমছে। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো ধারাবাহিক অনুশীলননির্ভর বিষয়ে এর প্রভাব পড়ছে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিপুলসংখ্যক পদ ফাঁকা থাকার কারণে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজি পড়াচ্ছেন। আবার ধর্মের শিক্ষককে গণিত পড়াতে হচ্ছে। যে কারণে শিখনমান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। চলতি বছর এসএসসিতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও গণিতে পাস করতে পারেনি।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যানব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ে ক্লাস নেন ৬৪ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষক, যাঁদের মধ্যে ৯ হাজার ৯৮২ জনের স্নাতকে ইংরেজি বিষয় ছিল না। অন্যদিকে গণিত পড়ান ৬৭ হাজার ৬৯৭ জন শিক্ষক, যাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ১৬৯ জনের স্নাতকে গণিত বিষয় ছিল না। অর্থাৎ দুই বিষয়ে মোট ২০ হাজার ১৫১ জন শিক্ষক স্নাতকে সংশ্লিষ্ট বিষয় না পড়েও পাঠদান করছেন।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে শেখার উদ্যোগ

শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকে কোচিং, প্রাইভেট কিংবা অনলাইন ভিডিওর ওপর নির্ভর করছে। ফেনী জেলার সুজাতপুর মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায়ও ওঠে এসেছে অনিয়মিত পাঠদান ও ব্যবহারিক ক্লাসের বিষয়গুলো।

ওই ছাত্র জানায়, ‘ক্লাসের অনেক বিষয় বুঝতে আমাকে ইউটিউবের ভিডিওর সাহায্য নিতে হয়। সব পরিবারের পক্ষে কোচিং বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ফলে কোচিংয়ের মতো বাড়তি সহায়তা নেওয়ার সামর্থ্য থাকা শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও আমাদের মতো নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে।’

একই বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যেতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে বোঝানো এবং ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অনেককে কোচিংয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইউটিউব ভিডিও দেখতে হয়। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা গেলে পাঠদানের মান উন্নত করা সম্ভব হবে।’

অবকাঠামো থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি

শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ ও পাঠ্যক্রম শেষ করার পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ বলে মনে করেন শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা। তবে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষের সংকট, কোথাও পানি নিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দুর্বলতা মাধ্যমিক শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিজ্ঞানাগার আছে, ব্যবহারিক শিক্ষা নেই

মাধ্যমিক শিক্ষায় ব্যবহারিক শিক্ষার চিত্রটা যেন খাতার পাতাতেই সীমাবদ্ধ। বিজ্ঞানাগার থাকলেও দক্ষ জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেখানে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে না অনেক শিক্ষার্থী। ব্যবহারিক ক্লাস না করেই খাতা তৈরি এবং তা দেখেই ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বছরের পর বছর বিজ্ঞানাগার অব্যবহৃত পড়ে থাকছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পদার্থ ও দক্ষ জনবলের অভাবে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। ফলে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করলেও বাস্তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিজ্ঞতা ছাড়াই শিক্ষাজীবন পার করছে অনেক শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, বিজ্ঞান বইয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা পড়ি। কিন্তু সেগুলো নিজের হাতে করে দেখার সুযোগ পাই না। আমাদের বিদ্যালয়ে একটা বিজ্ঞানাগার আছে, কিন্তু সেখানে ক্লাস হয় না। ব্যবহারিক ক্লাস না করেই খাতা তৈরি করতে হয়। এতে পরীক্ষায় নম্বর পেলেও বিষয়গুলো বাস্তবে কতটা শিখতে পারছি, তা নিয়ে সংশয় থাকে।’

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টি হলেই পানি জমে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টি হলেই পানি জমে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

মাধ্যমিক স্তরে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট। রাজধানীর পোগজ ল্যাবরেটরী স্কুলে কোনো কম্পিউটার ল্যাব নেই। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী তাহসিন আলম জানায়, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ল্যাব না থাকায় আইসিটি ক্লাসে কম্পিউটারে কাজ শেখার সুযোগ নেই। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে, যা আমাদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে যা করতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের শিখনঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জিত হচ্ছে না। পর্যাপ্ত শিখন ছাড়া শিক্ষার্থীরা একের পর এক শিক্ষাস্তর পার করছে, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পুরো জাতিকেই ভোগ করতে হবে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক সংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক নিয়োগের পরিপত্রে কিছু পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তন কার্যকর করতে আমরা পরিপত্র মন্ত্রানালয়ে পাঠিয়েছি ৷ সেখান থেকে যত দ্রুত পরিবর্তন আসবে আমরা তত দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১ অনুবিভাগ) সাইদুর রহমান মুঠোফোনে সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে পাওয়া ৭২৮ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকের ঘাটতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ল্যাবের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের কাজও চলমান রয়েছে।

/বিবি/