সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল ৩ বছরের জায়েদের

সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল ৩ বছরের জায়েদের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

মিরপুরের সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের মাঠে শনিবারও খেলছিল শিশুরা। তাদের কেউ দৌড়াচ্ছিল, কেউ খেলছিল আপনমনে। কিন্তু তাদের সঙ্গে নেই তিন বছরের আব্দুল্লাহ আল জায়েদ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এই মাঠের পাশেই একটি গাড়ির চাপায় প্রাণ হারায় শিশুটি। গাড়িটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ঘটনায় গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাইকপাড়া নিউ সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা জায়েদের মৃত্যুর পর আবাসিক এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে জায়গায় শিশুরা নিশ্চিন্তে খেলাধুলা করার কথা, সেখানেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিতে হলো তাকে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিনে ওই কোয়ার্টারে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা আগের মতোই খেলাধুলা করছে। তবে তাদের খেলার সঙ্গী জায়েদ আর নেই। সেখানে খেলতে আসা শিশু জুতি বলে, ‘আমরা যেখানে খেলছি, জায়েদও এখানে খেলত। সাদা রঙের একটা গাড়ি জায়েদের গায়ের ওপর উঠে যায়। আমরা একসঙ্গেই খেলতাম। কিন্তু আজ জায়েদ নাই।’
জানা গেছে, জায়েদকে চাপা দেওয়া পাজেরো স্পোর্টস গাড়িটির (ঢাকা-ঘ-১৮-৬০৪৮) চালক মন্টু খান ওই কোয়ার্টারের ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। একই ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।
বাসার সামনেই খেলছিল জায়েদ
নিচতলার বাসায় থাকায় ভবনের সামনের ছোট জায়গাটুকুই ছিল জায়েদের খেলার জগৎ। কখনো বালু নিয়ে খেলত, কখনো ছোটাছুটি করত। ঘটনার দিনও ভবনের সামনে বালু নিয়ে খেলছিল সে।
জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছিলেন। এ সময় গাড়িটি ঘোরানোর সময় তাঁর ছেলের ওপর উঠে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাড়িচালক মন্টু খান বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসায় খাবার খেতে আসেন। খাওয়া শেষে তাড়াহুড়ো করে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে বলেন, গাড়িটি কার জন্য বরাদ্দ এবং কে ব্যবহার করছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চালক মন্টু খান দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, অসাবধানতাবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সড়ক আইনের মামলায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চালকের অসতর্কতা নিয়ে অভিযোগ
কোয়ার্টারের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘোরানোর সময় চালক মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। আবার কারও দাবি, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে তিনি ঘুমঘুম অবস্থায় ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহোর বলেন, ‘জায়েদ অনেক ছোট শিশু, মাত্র তিন বছর বয়স। কোনটা করা উচিত আর কোনটা করা উচিত নয়, সেই জ্ঞান-বুদ্ধি তার ছিল না। যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাঁর তো বোঝা উচিত ছিল এটি একটি আবাসিক এলাকা। এখানে শিশুরা খেলবে, গাড়ির পেছনেও শিশু থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়ি চলাচলই নিষিদ্ধ। সেখানে কোনো ধরনের সতর্কতা না নিয়ে এভাবে গাড়ি চালিয়ে একটি শিশুকে চাপা দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় শিশুদের চলাচল ও খেলাধুলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ভবনের সামনে ও খেলার জায়গায় গাড়ি ঘোরানো কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
একই ভবনে শোক ও নীরবতা
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় চালক মন্টু খান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন। দুর্ঘটনার পর ভবনটির পরিবেশ বেশ নীরব। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ ছিল। তৃতীয় তলায় মন্টু খানের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বোঝা গেলেও ডাকাডাকির পর কেউ দরজা খোলেননি।
দুর্ঘটনার পর সরকারি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিজেদের বাসার সামনে কিংবা কোয়ার্টারের মাঠে খেলতে গিয়েও যদি শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
মাত্র তিন বছরের জায়েদের জীবন থেমে গেছে। যে বয়সে তার খেলাধুলা, নতুন শব্দ শেখা আর বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে হারাতে হলো পরিবারকে। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, সরকারি আবাসিক এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মিরপুরের সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের মাঠে শনিবারও খেলছিল শিশুরা। তাদের কেউ দৌড়াচ্ছিল, কেউ খেলছিল আপনমনে। কিন্তু তাদের সঙ্গে নেই তিন বছরের আব্দুল্লাহ আল জায়েদ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এই মাঠের পাশেই একটি গাড়ির চাপায় প্রাণ হারায় শিশুটি। গাড়িটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ঘটনায় গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাইকপাড়া নিউ সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা জায়েদের মৃত্যুর পর আবাসিক এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে জায়গায় শিশুরা নিশ্চিন্তে খেলাধুলা করার কথা, সেখানেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিতে হলো তাকে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিনে ওই কোয়ার্টারে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা আগের মতোই খেলাধুলা করছে। তবে তাদের খেলার সঙ্গী জায়েদ আর নেই। সেখানে খেলতে আসা শিশু জুতি বলে, ‘আমরা যেখানে খেলছি, জায়েদও এখানে খেলত। সাদা রঙের একটা গাড়ি জায়েদের গায়ের ওপর উঠে যায়। আমরা একসঙ্গেই খেলতাম। কিন্তু আজ জায়েদ নাই।’
জানা গেছে, জায়েদকে চাপা দেওয়া পাজেরো স্পোর্টস গাড়িটির (ঢাকা-ঘ-১৮-৬০৪৮) চালক মন্টু খান ওই কোয়ার্টারের ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। একই ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।
বাসার সামনেই খেলছিল জায়েদ
নিচতলার বাসায় থাকায় ভবনের সামনের ছোট জায়গাটুকুই ছিল জায়েদের খেলার জগৎ। কখনো বালু নিয়ে খেলত, কখনো ছোটাছুটি করত। ঘটনার দিনও ভবনের সামনে বালু নিয়ে খেলছিল সে।
জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছিলেন। এ সময় গাড়িটি ঘোরানোর সময় তাঁর ছেলের ওপর উঠে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাড়িচালক মন্টু খান বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসায় খাবার খেতে আসেন। খাওয়া শেষে তাড়াহুড়ো করে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে বলেন, গাড়িটি কার জন্য বরাদ্দ এবং কে ব্যবহার করছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চালক মন্টু খান দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, অসাবধানতাবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সড়ক আইনের মামলায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চালকের অসতর্কতা নিয়ে অভিযোগ
কোয়ার্টারের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘোরানোর সময় চালক মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। আবার কারও দাবি, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে তিনি ঘুমঘুম অবস্থায় ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহোর বলেন, ‘জায়েদ অনেক ছোট শিশু, মাত্র তিন বছর বয়স। কোনটা করা উচিত আর কোনটা করা উচিত নয়, সেই জ্ঞান-বুদ্ধি তার ছিল না। যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাঁর তো বোঝা উচিত ছিল এটি একটি আবাসিক এলাকা। এখানে শিশুরা খেলবে, গাড়ির পেছনেও শিশু থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়ি চলাচলই নিষিদ্ধ। সেখানে কোনো ধরনের সতর্কতা না নিয়ে এভাবে গাড়ি চালিয়ে একটি শিশুকে চাপা দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় শিশুদের চলাচল ও খেলাধুলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ভবনের সামনে ও খেলার জায়গায় গাড়ি ঘোরানো কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
একই ভবনে শোক ও নীরবতা
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় চালক মন্টু খান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন। দুর্ঘটনার পর ভবনটির পরিবেশ বেশ নীরব। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ ছিল। তৃতীয় তলায় মন্টু খানের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বোঝা গেলেও ডাকাডাকির পর কেউ দরজা খোলেননি।
দুর্ঘটনার পর সরকারি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিজেদের বাসার সামনে কিংবা কোয়ার্টারের মাঠে খেলতে গিয়েও যদি শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
মাত্র তিন বছরের জায়েদের জীবন থেমে গেছে। যে বয়সে তার খেলাধুলা, নতুন শব্দ শেখা আর বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে হারাতে হলো পরিবারকে। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, সরকারি আবাসিক এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল ৩ বছরের জায়েদের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

মিরপুরের সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের মাঠে শনিবারও খেলছিল শিশুরা। তাদের কেউ দৌড়াচ্ছিল, কেউ খেলছিল আপনমনে। কিন্তু তাদের সঙ্গে নেই তিন বছরের আব্দুল্লাহ আল জায়েদ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এই মাঠের পাশেই একটি গাড়ির চাপায় প্রাণ হারায় শিশুটি। গাড়িটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ঘটনায় গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাইকপাড়া নিউ সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা জায়েদের মৃত্যুর পর আবাসিক এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে জায়গায় শিশুরা নিশ্চিন্তে খেলাধুলা করার কথা, সেখানেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিতে হলো তাকে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিনে ওই কোয়ার্টারে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা আগের মতোই খেলাধুলা করছে। তবে তাদের খেলার সঙ্গী জায়েদ আর নেই। সেখানে খেলতে আসা শিশু জুতি বলে, ‘আমরা যেখানে খেলছি, জায়েদও এখানে খেলত। সাদা রঙের একটা গাড়ি জায়েদের গায়ের ওপর উঠে যায়। আমরা একসঙ্গেই খেলতাম। কিন্তু আজ জায়েদ নাই।’
জানা গেছে, জায়েদকে চাপা দেওয়া পাজেরো স্পোর্টস গাড়িটির (ঢাকা-ঘ-১৮-৬০৪৮) চালক মন্টু খান ওই কোয়ার্টারের ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। একই ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।
বাসার সামনেই খেলছিল জায়েদ
নিচতলার বাসায় থাকায় ভবনের সামনের ছোট জায়গাটুকুই ছিল জায়েদের খেলার জগৎ। কখনো বালু নিয়ে খেলত, কখনো ছোটাছুটি করত। ঘটনার দিনও ভবনের সামনে বালু নিয়ে খেলছিল সে।
জায়েদের বাবা শাহীন হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছিলেন। এ সময় গাড়িটি ঘোরানোর সময় তাঁর ছেলের ওপর উঠে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাড়িচালক মন্টু খান বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসায় খাবার খেতে আসেন। খাওয়া শেষে তাড়াহুড়ো করে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে বলেন, গাড়িটি কার জন্য বরাদ্দ এবং কে ব্যবহার করছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চালক মন্টু খান দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, অসাবধানতাবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, গাড়িচালক মন্টু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সড়ক আইনের মামলায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চালকের অসতর্কতা নিয়ে অভিযোগ
কোয়ার্টারের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘোরানোর সময় চালক মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। আবার কারও দাবি, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে তিনি ঘুমঘুম অবস্থায় ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহোর বলেন, ‘জায়েদ অনেক ছোট শিশু, মাত্র তিন বছর বয়স। কোনটা করা উচিত আর কোনটা করা উচিত নয়, সেই জ্ঞান-বুদ্ধি তার ছিল না। যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাঁর তো বোঝা উচিত ছিল এটি একটি আবাসিক এলাকা। এখানে শিশুরা খেলবে, গাড়ির পেছনেও শিশু থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, কোয়ার্টারের ভেতরে গাড়ি চলাচলই নিষিদ্ধ। সেখানে কোনো ধরনের সতর্কতা না নিয়ে এভাবে গাড়ি চালিয়ে একটি শিশুকে চাপা দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় শিশুদের চলাচল ও খেলাধুলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ভবনের সামনে ও খেলার জায়গায় গাড়ি ঘোরানো কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
একই ভবনে শোক ও নীরবতা
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় চালক মন্টু খান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন। দুর্ঘটনার পর ভবনটির পরিবেশ বেশ নীরব। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ ছিল। তৃতীয় তলায় মন্টু খানের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বোঝা গেলেও ডাকাডাকির পর কেউ দরজা খোলেননি।
দুর্ঘটনার পর সরকারি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিজেদের বাসার সামনে কিংবা কোয়ার্টারের মাঠে খেলতে গিয়েও যদি শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
মাত্র তিন বছরের জায়েদের জীবন থেমে গেছে। যে বয়সে তার খেলাধুলা, নতুন শব্দ শেখা আর বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে হারাতে হলো পরিবারকে। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, সরকারি আবাসিক এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।









