১ বছরে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ, বেড়েছে মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ বছরে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ, বেড়েছে মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যমে
শিক্ষার্থী। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দেশে এক বছরের ব্যবধানে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৪ লাখের বেশি। স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে আগের বছরের তুলনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৫০ জন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে, এসব পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশের বিয়ে হয়ে গেছে। যাদের ৯৭ শতাংশই ছাত্রী।

যদিও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। তবে শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা মহামারির পর বিশাল গ্যাপ, শিখন ঘাটতি, সাম্প্রতিক নানা বিষয়, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের একাংশের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে।

ব্যানবেইসের সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী,, দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ১১২ শিক্ষার্থী এবং ৬ লাখ ৯১ হাজার ২২৬ জন শিক্ষক আছেন। প্রতিষ্ঠানটির গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ৮২ হাজার ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ শিক্ষার্থী এবং ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯ জন শিক্ষক আছেন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও মোট শিক্ষার্থী কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন।

অন্যদিকে ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, জুনিয়র স্কুলসহ দেশে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে ১৯ হাজার ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। অর্থাৎ এক বছরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেড়েছে ৯৪টি, আর শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজারের বেশি।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যেও সার্বিকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

এছাড়া কারিগরি শিক্ষায়ও কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে।

তবে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল (পাস), ফাজিল (অনার্স) ও কামিল পড়ানো হয় দেশে এমন মাদ্রাসা আছে ৯ হাজার ২৯৬টি। ২০২৫ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২৬৯টি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি। অর্থাৎ এক বছরে মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে ২৭টি আর শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এই হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও কওমি মাদ্রাসার তথ্য নেই।

অন্যদিকে ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের সংখ্যা ১৪৩। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৯ হাজার ৬৭২ জন। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন।

প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থী কমার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার্থী কমার পেছনে শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দুর্বলতা এবং জবাবদিহির ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। এজন্য শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার ওপর তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

/জেএইচ/