শিরোনাম

বিলুপ্ত নয়, র‍্যাবকে আরও সক্রিয় করছে সরকার

নিজস্ব  প্রতিবেদক
বিলুপ্ত নয়, র‍্যাবকে আরও সক্রিয় করছে সরকার

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি ওঠে। এমনকি সে সময়ে গঠিত গুম কমিশন র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও করেছিল। তবে বর্তমানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত করার পক্ষে নয়। এর পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় র‍্যাবকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও কাঠামোগতভাবে পুনর্গঠন করে অপরাধ দমনে কাজে লাগাতে চায় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ইতোমধ্যেই র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে আলাদা প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন, নতুন সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ, ১৬৩টি গাড়ি কেনার অনুমোদনসহ আলাদা আইনের খসড়াও তৈরি করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ আটটি বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। বর্তমানে সারা দেশে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনে দ্রুত অভিযানের জন্য শুরুতে র‍্যাব ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে দেওয়ার অভিযোগে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য দুটি নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে র‍্যাবের জন্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৩টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনের খসড়ায় সংবিধান, বিদ্যমান ফৌজদারি আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম, নিয়োগ, পদায়ন, শৃঙ্খলার বিষয়সমূহ পরিচালিত হবে। গ্রেপ্তার, তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষমতাও নির্দিষ্ট করা হবে।

/জেএইচ/