শিরোনাম

খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জেনে নিন ঝুঁকি কমানোর উপায়

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জেনে নিন ঝুঁকি কমানোর উপায়
প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি টুথপেস্টে, দুধ, চিনি ও সয়াবিন তেলের মতো নিয়মিত ব্যবহ্রত ও খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া কৈ-বাটাসহ ৫ ধরণের মাছে ক্ষতিকার এই বস্তুর উপস্থিতি মিলেছে। এটা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে গবেষণা। স্থ্যবিদরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। ডিএনএর ক্ষতিসহ প্রজনন ক্ষমতা কমানো, এমনকি কোষও নষ্ট করে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে মাইক্রাপ্লাস্টিক প্রবেশ ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। কারণ, প্লাস্টিক কণা শুধু খাবারের সঙ্গে মিশে নয়, ত্বকের রন্ধ্র এমনকি, শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমেও শরীরে ঢুকতে পারে। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতি এবং তা থেকে বাঁচার ৬টি কার্যকর উপায়।

পানি ফিল্টার করুন

গ্রামে যেসব টিউবওয়েল ব্যবহৃত হয়, এর পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। তাই পানি সব সময় ফিল্টার করে পার করুন। ফিল্টার মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণাগুলোকে অনেকটাই ছেঁকে ফেলে। এছাড়া বাইরে থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। প্লাস্টিকের পাত্র থেকে খাবারে প্লাস্টিক কণা মেশার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখাই ভালো।

পাত্র ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

গরম বা যেকোনো খাবার রাখার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে কাচ বা ধাতব পাত্র ব্যবহার করুন। এগুলো অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ, কাচ বা ধাতব পাত্র খাবারকে দূষিত করে না। কিন্তু প্লাস্টিক কোনোভাবে গরম হলে বা ভেঙে গেলে তা থেকে খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশতে পারে।

এক প্লাস্টিক দুইবার নয়

প্লাস্টিক সাধারণত একবারের বেশি দুইবার ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন- গ্লাস, প্যাকেট, স্ট্র এগুলো থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি ছড়ায়। এজন্য প্লাস্টিকের জিনিস যেমন কাঁটা-চামচ, বাটি, ট্রে ইত্যাদি একবার ব্যবহার করার পর ফেলে দেওয়া উচিত।

পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার

শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপীই প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে। তবে পরিবেশবিদরা প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমাতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পোশাকের ক্ষেত্রেও সুতি, উল, লিনেনের পোশাক ব্যবহার করুন। পলিয়েস্টার জাতীয় পোশাক এড়িয়ে চলুন। বিছানার চাদর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সামুদ্রিক খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি

গবেষকরা সামুদ্রিক মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। সমুদ্রের পানিতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকে। ওইসব পানিতে বেড়ে ওঠে মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে মাছের দেহে প্রবেশ করে পরে সেই মাছ খাওয়ার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এজন্য সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা

নিত্যদিনের শারীরিক পরিচর্যার সামগ্রীর মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এজন্য মাজন, স্ক্রাব, প্রসাধনী কেনার আগে উপকরণের তালিকায় পলিথিন বা পলিপ্রপিলিন জাতীয় কোনো নাম রয়েছে কিনা দেখে নিন। যদি থাকে, তাহলে ওই ধরনের পণ্য এড়িয়ে চলা উচিত।

/জেএইচ/