মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। সাধারণত এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এটি পানি ও মাটির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে শরীরে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে–
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ফুসফুসের প্রদাহ এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি অ্যাজমা ও সিওপিডির অবনতি, অন্ত্রের প্রদাহ, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। এর প্রভাবে আইবিএস ও ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। রক্তনালীর ক্ষতি, অস্বাভাবিক রক্তজমাট বাঁধা এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে।
মস্তিষ্কের ওপরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিউরো-ইনফ্লেমেশন (স্নায়ু প্রদাহ) এবং জ্ঞানীয় ও চিন্তাশক্তির সক্ষমতা হ্রাস করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতা হ্রাস পাওয়া এবং ভ্রূণের বিকাশেও প্রভাব ফেলে।
এসডোর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বিক্রি হওয়া স্বনামধন্য কোম্পানির প্রতি ৪টি টুথপেস্টের মধ্যে প্রায় ৩টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। রবিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
এসডো জানায়, দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টি বা ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুইটির দুইটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
কী বলছেন গবেষকরা
এসডোর চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে– এ বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
দন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, আমাদের মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা মোটেও উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর অত্যন্ত বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপপরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, আমরা আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এসডো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা একসঙ্গে কাজ করে পার্সোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
এসডোর মতে, বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্যও এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। সাধারণত এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এটি পানি ও মাটির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে শরীরে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে–
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ফুসফুসের প্রদাহ এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি অ্যাজমা ও সিওপিডির অবনতি, অন্ত্রের প্রদাহ, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। এর প্রভাবে আইবিএস ও ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। রক্তনালীর ক্ষতি, অস্বাভাবিক রক্তজমাট বাঁধা এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে।
মস্তিষ্কের ওপরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিউরো-ইনফ্লেমেশন (স্নায়ু প্রদাহ) এবং জ্ঞানীয় ও চিন্তাশক্তির সক্ষমতা হ্রাস করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতা হ্রাস পাওয়া এবং ভ্রূণের বিকাশেও প্রভাব ফেলে।
এসডোর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বিক্রি হওয়া স্বনামধন্য কোম্পানির প্রতি ৪টি টুথপেস্টের মধ্যে প্রায় ৩টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। রবিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
এসডো জানায়, দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টি বা ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুইটির দুইটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
কী বলছেন গবেষকরা
এসডোর চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে– এ বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
দন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, আমাদের মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা মোটেও উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর অত্যন্ত বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপপরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, আমরা আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এসডো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা একসঙ্গে কাজ করে পার্সোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
এসডোর মতে, বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্যও এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। সাধারণত এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এটি পানি ও মাটির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে শরীরে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে–
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ফুসফুসের প্রদাহ এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি অ্যাজমা ও সিওপিডির অবনতি, অন্ত্রের প্রদাহ, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। এর প্রভাবে আইবিএস ও ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। রক্তনালীর ক্ষতি, অস্বাভাবিক রক্তজমাট বাঁধা এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে।
মস্তিষ্কের ওপরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিউরো-ইনফ্লেমেশন (স্নায়ু প্রদাহ) এবং জ্ঞানীয় ও চিন্তাশক্তির সক্ষমতা হ্রাস করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতা হ্রাস পাওয়া এবং ভ্রূণের বিকাশেও প্রভাব ফেলে।
এসডোর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বিক্রি হওয়া স্বনামধন্য কোম্পানির প্রতি ৪টি টুথপেস্টের মধ্যে প্রায় ৩টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। রবিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
এসডো জানায়, দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টি বা ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুইটির দুইটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
কী বলছেন গবেষকরা
এসডোর চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে– এ বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
দন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, আমাদের মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা মোটেও উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর অত্যন্ত বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপপরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, আমরা আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এসডো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা একসঙ্গে কাজ করে পার্সোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
এসডোর মতে, বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্যও এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত
মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি যে ৮ টুথপেস্টে
কম্পিউটারের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে যা করবেন





